ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা, নতুন নীতিমালার খসড়া প্রকাশ

ফ্যামিলি কার্ড
দেশে এখন
0

দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত এই নীতিমালার মূল দর্শন হলো ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর বৈষম্যহীন ও মানবিক ‘সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (Who Will 'Not Get' Family Card: Ministry of Social Welfare Releases Draft Policy)।

গত (শুক্রবার, ১২ জুন) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই নীতিমালার খসড়াটি প্রকাশ করা হয় এবং একই সঙ্গে এ বিষয়ে সর্বসাধারণের জনমত ও পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

ফ্যামিলি কার্ডের ‘নেতিবাচক তালিকা’: যারা এই সুবিধা পাবেন না (Family Card Negative List: Who are Excluded from Benefits)

নীতিমালার খসড়ায় কর্মসূচির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট নেতিবাচক তালিকা বা বহির্ভুতকরণ মানদণ্ড (Negative list or exclusion criteria) রাখা হয়েছে। কোনো পরিবারের মধ্যে নিচের যেকোনো একটি বৈশিষ্ট্য থাকলে তারা এই ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না:

সরকারি চাকরি ও পেনশন: পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী কিংবা নিয়মিত পেনশনভোগী (Regular pensioner) হলে।

সঞ্চয়পত্র ও গাড়ি: পরিবারে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের মালিক বা চার চাকার মোটরযানের অধিকারী (Owner of a four-wheeler motor vehicle) কেউ থাকলে।

আয়কর দাতা: পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত আয়কর দাতা (Regular taxpayer) হলে।

জমির পরিমাণ: বসতভিটাসহ পরিবারের আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার বেশি হলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের অযোগ্য বলে গণ্য হবে।

আরও পড়ুন:

নারীর ক্ষমতায়ন ও ‘টাকা পে’ স্মার্ট কার্ডের সুবিধা (Women Empowerment and 'Taka Pay' Smart Card Benefits)

নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশীদারিত্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডটি সংশ্লিষ্ট পরিবারের মাতা অথবা উপযুক্ত জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে। প্রতিটি লক্ষ্যভুক্ত পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী ও অনন্য পরিচিতি নম্বর বা ‘ওয়ান-আইডি’ প্রদান করা হবে, যা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ রিলেশনাল ডেটা মডেলের (Family Tree relational data model) মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যদের আইডির সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নিয়মবহির্ভূতভাবে সমান্তরাল একাধিক সুবিধা বা ‘দ্বৈত সুবিধা’ গ্রহণ রোধ করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত এই ফ্যামিলি কার্ডটি হবে একটি বহুমুখী ডুয়াল ইন্টারফেস (NFC ও চিপ-ভিত্তিক) স্মার্ট কার্ড। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত ‘টাকা পে’ অ্যাপলেট (Taka Pay applet) থাকবে, যার মাধ্যমে উপকারভোগীরা যেকোনো এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কার্ডের সক্রিয়তা পরীক্ষা করতে পারবেন। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণের আইবাস++ (iBAS++) পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।

প্রকৃত অভাবী পরিবার শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI in Identifying Real Needy Families)

প্রকৃত অভাবী পরিবার সঠিকভাবে শনাক্তকরণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ স্কোরিং পদ্ধতি (Proxy Means Test scoring method) ব্যবহার করা হবে। এই স্কোরের ভিত্তিতে জনগোষ্ঠীকে পাঁচটি অর্থনৈতিক স্তরে (কোয়াইন্টাইল) বিন্যাস করে অতি দরিদ্র ও দরিদ্রদের আবশ্যিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দুর্গম হাওড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও পার্বত্য এলাকার জন্য থাকবে বিশেষ ‘আঞ্চলিক ওয়েটেজ’ বা অতিরিক্ত অগ্রাধিকার পয়েন্ট। এ ছাড়া ডেটাবেজে জালিয়াতি বা অসংগতি প্রতিরোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

একটি বস্তুনিষ্ঠ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণে দেশব্যাপী কাগজবিহীন বিশেষ ডিজিটাল পরিবার জরিপ পরিচালনা করা হবে। গণনাকারীরা সরাসরি ‘ফ্যামিলি কার্ড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন’ ব্যবহার করে সরেজমিন গৃহ পরিদর্শনের সময় বসতবাড়ির জিপিএস জিও-ট্যাগিং এবং স্থিরচিত্র গ্রহণ করবেন। ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত দুর্গম অঞ্চলের জন্য অ্যাপটিতে ‘অফলাইন মোড’-এর সুবিধা থাকবে।

আরও পড়ুন:

তদারকিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও লাইভ ভেরিফিকেশন (High-level Committee for Oversight and Live Verification)

নীতিমালা বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ (Cabinet committee on social safety net programs) প্রধান নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ সচিবের নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কমিটি’ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচলকের নেতৃত্বে ‘জাতীয় কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কমিটি’ দায়িত্ব পালন করবে। তৃণমূল পর্যায়ে যোগ্য পরিবার নির্বাচন ও তদারকির জন্য জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পৃথক বাস্তবায়ন ও আপিল কমিটি গঠন করা হবে।

খসড়া নীতিমালায় আরও জানানো হয়, প্রতিবছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে মৃত বা ভুয়া উপকারভোগী বাদ দিতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে লাইভ ভেরিফিকেশন বা পরিচয় যাচাই (Live verification through facial recognition technology) করা হবে। কোনো পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করলে পদ্ধতিগত মূল্যায়নপূর্বক উক্ত কর্মসূচি হতে তাদের সফল উত্তরণ ঘটানো হবে এবং শূন্য আসনে নতুন যোগ্য পরিবারকে প্রতিস্থাপন করা হবে। নীতিমালাটি সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তারিখ থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হবে।

ফ্যামিলি কার্ড |ছবি: এখন টিভি

একনজরে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ‘পাবেন না’ যারা (Exclusion Criteria for Family Card at a Glance)

বহিষ্কারের খাত বা শর্ত
(Exclusion Category)
ফ্যামিলি কার্ডের অযোগ্যতার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড
(Specific Disqualification Criteria)
নীতিমালার উদ্দেশ্য
(Policy Objective)
চাকরি ও সামাজিক নিরাপত্তা পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী অথবা নিয়মিত পেনশনভোগী হলে ওই পরিবার আবেদন করতে পারবে না। প্রকৃত অভাবী, দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবার সঠিকভাবে শনাক্তকরণ এবং সমান্তরাল 'দ্বৈত সুবিধা' গ্রহণ রোধ করা।
আর্থিক বিনিয়োগ ও সঞ্চয় পরিবারের কোনো সদস্যের নামে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে তারা অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।
যানবাহন ও ট্যাক্স প্রোফাইল পরিবারে কোনো চার চাকার মোটরযানের মালিক থাকলে কিংবা কোনো সদস্য নিয়মিত আয়কর দাতা (Taxpayer) হলে।
স্থাবর সম্পত্তি ও জমি বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি বা কৃষি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর (৫০ শতাংশ) বা তার বেশি হলে।
জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা ডেটাবেজে ভুল তথ্য বা জালিয়াতি রুখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং প্রতিবছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে মৃত বা ভুয়া কার্ডধারী বাদ দিতে ফেসিয়াল রিকগনিশন 'লাইভ ভেরিফিকেশন' করা হবে।
তথ্যসূত্র: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ১২ জুন, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬’-এর অফিশিয়াল খসড়া।

আরও পড়ুন:

"ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা, নতুন নীতিমালার খসড়া প্রকাশ" নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর-FAQ

প্রশ্ন: টিসিবির নতুন খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী কারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না?

উত্তর: সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মী, পেনশনভোগী, নিয়মিত করদাতা (TIN ধারী), বড় ব্যবসায়ী, পাকা বাড়ির মালিক এবং যাদের নিজস্ব চার চাকার গাড়ি রয়েছে, তারা নতুন খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না।

প্রশ্ন: সরকারি ভাতা বা সুবিধাভোগীরা কি নতুন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন?

উত্তর: না। নতুন খসড়া নীতিমালার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—যারা ইতিমধ্যে সরকারের অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা (যেমন: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, পঙ্গু ভাতা বা অন্য কোনো নিয়মিত নগদ বা খাদ্য সহায়তা) পাচ্ছেন, তারা এই ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।

প্রশ্ন: একটি পরিবার থেকে কি একাধিক ব্যক্তি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিতে পারবেন?

উত্তর: না, নতুন নিয়ম অনুযায়ী "এক পরিবার, এক কার্ড" নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে কার্ড থাকলে তা বাতিল করা হবে এবং কেবল একজনই এই সুবিধা পাবেন।

প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য আয়ের সর্বোচ্চ সীমা কত নির্ধারণ করা হয়েছে?

উত্তর: নতুন খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব পরিবারের বার্ষিক মোট আয় নির্দিষ্ট সীমার ওপরে (সাধারণত দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকা পরিবার) অথবা যাদের নিয়মিত স্থায়ী মাসিক আয় আছে, তারা এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

প্রশ্ন: প্রবাসীদের পরিবার কি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য?

উত্তর: সাধারণত যেসব পরিবারের কোনো সদস্য বিদেশে কর্মরত আছেন এবং নিয়মিত রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন, তাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে নতুন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রশ্ন: নতুন নীতিমালাটি কি চূড়ান্ত হয়েছে, নাকি এটি এখনো খসড়া পর্যায়ে আছে?

উত্তর: এটি বর্তমানে খসড়া (Draft) পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের যাচাই-বাছাই ও মতামতের পর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ক্যাবিনেটে পাঠানো হবে এবং এরপরই তা কার্যকর হবে।

প্রশ্ন: নতুন খসড়া নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো—তালিকা থেকে ভুয়া ও সচ্ছল সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া, কার্ড বিতরণে জালিয়াতি ও অনিয়ম বন্ধ করা এবং প্রকৃত দরিদ্র, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যের পণ্য পৌঁছে দেওয়া।

প্রশ্ন: যারা ইতিমধ্যে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও কার্ড পেয়েছেন, তাদের কার্ডের কী হবে?

উত্তর: নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে দেশজুড়ে বিদ্যমান ফ্যামিলি কার্ডধারীদের তালিকা রি-ভেরিফিকেশন বা পুনর্যাচাই করা হবে। যাচাইবাছাইয়ে সচ্ছল প্রমাণিত হলে তাদের কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: নতুন নিয়মে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা কারা তৈরি বা যাচাই করবেন?

উত্তর: স্থানীয় প্রশাসন (ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি) প্রাথমিক তালিকা করবে, যা পরবর্তীতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স কমিটি দ্বারা চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হবে।

প্রশ্ন: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বাধ্যতামূলক?

উত্তর: হ্যাঁ, নতুন নীতিমালায় জালিয়াতি ঠেকাতে প্রত্যেক কার্ডধারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর বাধ্যতামূলকভাবে ডাটাবেজে যুক্ত করা হবে। একটি NID-র বিপরীতে কেবল একটি কার্ডই ইস্যু করা সম্ভব হবে।

প্রশ্ন: নতুন ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করার নিয়ম কী?

উত্তর: খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। সাধারণত নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় নথিসহ (NID, আয়ের সনদ ইত্যাদি) আবেদন করতে হবে।

প্রশ্ন: নতুন ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা কি অনলাইনে চেক করা যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, সরকার সমস্ত কার্ডধারীদের তথ্য নিয়ে একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করছে। নীতিমালা পুরোপুরি কার্যকর হলে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে NID নম্বর দিয়ে কার্ডের স্ট্যাটাস বা তালিকায় নাম আছে কিনা তা চেক করা যাবে।

প্রশ্ন: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বর্তমানে কী কী পণ্য দেওয়া হয়?

উত্তর: এই কার্ডের মাধ্যমে সাধারণত টিসিবি (TCB) নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি এবং ক্ষেত্রবিশেষে চাল ও পেঁয়াজ নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর মাঝে চালানি বা কিস্তি আকারে বিতরণ করা হয়।

প্রশ্ন: নতুন নীতিমালায় কোনো জালিয়াতি ধরা পড়লে কী শাস্তির বিধান আছে?

উত্তর: খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে কার্ড নেন কিংবা কোনো জনপ্রতিনিধি বা কর্মকর্তা প্রভাব খাটিয়ে সচ্ছলদের কার্ড করে দেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং কার্ড বাতিলের পাশাপাশি জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে।

প্রশ্ন: নতুন ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা বা বিতরণ কবে থেকে কার্যকর হতে পারে?

উত্তর: খসড়া নীতিমালাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সরকারি প্রজ্ঞাপন (Gazette) জারির মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন নিয়মে ডাটাবেজ হালনাগাদ করার কাজ শুরু হবে।


এসআর