প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার-অভিবাসন জটিলতা সমাধানে আশার আলো

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীরা
প্রবাস
দেশে এখন
0

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন কারণে এখনও বন্ধ আছে এ শ্রমবাজার। যেকারণে প্রধানমন্ত্রীর সফরে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে শ্রমবাজার খোলার বিষয়। সরকার প্রধানের এ সফরে শ্রম অভিবাসন জটিলতা নিরসনের পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় সমন্বয় চায় শ্রমিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমবাজার নিয়ে বড় সুখবর না এলেও এ সফর নতুন আলোচনার পথ তৈরি করবে।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। যদিও প্রায় দেড় বছর ধরে এই শ্রমবাজারে চলছে অস্থিরতা। দেশটির নানা শর্তে জটিল পরিস্থিতিতে আছে শ্রম অভিবাসন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে এ অস্থিরতা কেটে ওঠাসহ শ্রমবাজার নিয়ে সুখবরের আশা করা হচ্ছে।

প্রবাসী আয়ের অন্যতম এ দেশটিতে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, প্লান্টেশন ও সেবা খাতে নিয়মিত-অনিয়মিত মিলে প্রায় ১২ লাখের মতো বাংলাদেশি কাজ করছেন। গেল মে মাসে ৩০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্সও পাঠিয়েছেন তারা। নতুন কর্মী গেলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। তাই সরকার প্রধানের সফরের মধ্যদিয়ে শ্রম অভিবাসন জটিলতার নিরসন চান শ্রমিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণেরও পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বায়রার সাবেক মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘মালয়েশিয়ান এম্প্লয়াররা বসে আছে কখন বাংলাদেশি কর্মীরা এখানে আসবে, তাদের কর্মীর চাহিদা আছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা কিন্তু সেটা আশাবাদী এবং আমরা আশা করি যে মালয়েশিয়ান মার্কেটটা খুলুক। আমরা এখন কোনো, এমন কোনো ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম আমরা এখনো ডেভেলপ করতে পারিনি। যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, তাদের মধ্যে একটা যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা কানেক্টিভিটি বাড়াতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কস্টগুলো বাড়তে থাকবে।’

২০০৮ সালে কর্মী নেয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। এরপর বেশ কয়েক দফায় সিদ্ধান্ত বদল হলে কর্মী পাঠানো অনিয়মিত হয়ে যায় দেশটিতে। পুনরায় ২০২২ সালে নতুন করে কর্মী নিয়োগ শুরু করলেও ২০২৪ সালে আবারও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার প্রত্যাশা থাকলেও দেশটির নানা শর্ত আর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে এবারও বড় কোনো আশা করছেন না অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তবে সরকার প্রধানের সফর দিয়ে নতুন আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে বলছেন তারা।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, ‘সফট ডিপ্লোমেসিতে এ মালয়েশিয়ার সমস্যার সমাধান হবে না। কাজেই আমাদের যে আকাঙ্ক্ষা আছে, আকাঙ্ক্ষা অন্তত এ ভিজিট থেকে পূর্ণ হবে না, কিন্তু এটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হয়তো দুই একটা পথ খুলতে পারে।’

দেশটির শ্রমবাজার বহুবছর ধরে সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি। তাই শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আগেই সরকারকে রিক্রুটিং এজেন্সির শ্রেণি-বিন্যাস নির্ধারণ করার পরামর্শ এই অভিবাসন বিশেষজ্ঞ।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, ‘একটা শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর, একটা বিধি কিন্তু তৈরি আছে। কিন্তু সেটা এখানে প্রভাবশালী রিক্রুটিং এজেন্সিরা এটা কয়েক বছর ধরে এটাকে থামিয়ে রেখেছে বা এটাকে বাস্তবায়ন করতে দেয় নাই। এটাকে যদি একটু ফোর্সফুলি বাস্তবায়ন বাংলাদেশ সরকার করতে পারে, বাংলাদেশ সরকারই নির্বাচন করতে পারে যে এরা ‘এ’ ক্যাটাগরির বা এরা ‘বি’ ক্যাটাগরির এবং এদের মধ্য থেকে কারা মালয়েশিয়ার জন্য কাজ করতে পারে।’

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কুয়ালালামপুর সফরে শ্রমবাজার খোলার পাশাপাশি অনিয়মিতদের বৈধতার সুযোগ সৃষ্টিরও প্রত্যাশা করছেন দেশটিতে থাকা প্রবাসীরা।

জেআর