ঢাকার দুই সিটির একটা বড় অংশই সবসময় থাকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে। আর বর্ষা মৌসুমে প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ।
গতকাল (বুধবার, ২৪ জুন) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মীদের নিয়ে গুলশানের কয়েকটি বাড়িতে মশক নিধন অভিযান পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ১১৩ ও ১০৭ নম্বর রোডের বহুতল ভবনগুলোতে চালানো হয় চিরুনি তল্লাশি।
অভিযানে বেরিয়ে আসে উদ্বেগজনক চিত্র। অভিযানকারী দল মাত্র ৬টি আবাসিক ভবন পরিদর্শন করে ৩টিতেই এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পায়। এ কারণে চয়েস নামের একটি রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আপনারা আপনাদের নিজেদের জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপত্তার জন্যে একটু আপনাদের বেলকুনি, টব, ছাদ, নিচের অংশগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। এই টাস্কফোর্স করা হয়েছে অভিযান পরিচালনা করার জন্যে। এডিস মশার উৎসস্থলগুলি, সোর্সগুলি দূরীকরণের জন্যে যে কার্যক্রম এটা আমরা অব্যাহত রাখবো।’
অভিজাত এলাকার ভবনগুলোতে মশক নিধন কর্মীদের ঢুকতে না দেয়া এবং নাগরিকদের উদাসীনতাকে ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম কারণ বলছেন ডিএনসিসির কর্মকর্তারা। যদিও মশকনিধন কর্মীদের কাজে ফাঁকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রে: জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমরা যে ছয়টা বাড়িতে গিয়েছি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যে মশক কর্মীরা এখানে নিয়মিতভাবে ডিউটি করে, সাধারণত তাদের এই বাড়িগুলাতে যাওয়া একটু কঠিন হয়ে থাকে। ছয়টা বাড়ির মধ্যে আমরা তিনটা বাড়িতে লার্ভা পেয়েছি এবং এটাই হচ্ছে নগরের অন্যান্য এলাকার চিত্র। ৫০ শতাংশ এর অধিক বাড়িতে আমরা লার্ভাটা পাবো।’
চলতি জুনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা দীর্ঘায়িত হওয়ায় অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি সপ্তাহেই অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা।





