বাংলাদেশ সফরে সরকারি বৈঠক নিয়ে হতাশা প্রকাশ অ্যান্ডি হলের

অভিবাসী অধিকারকর্মী অ্যান্ডি হল
দেশে এখন
2

বাংলাদেশ সফর শেষে সরকারের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিবাসী শ্রমিক অধিকার বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মী অ্যান্ডি হল।

আজ (রোববার, ৫ জুলাই) গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নিরাপদ অভিবাসন, নৈতিক নিয়োগ এবং অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে গঠনমূলকভাবে অবদান রাখার আন্তরিক প্রত্যাশা নিয়ে তিনি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। সফরের অধিকাংশ অংশ ইতিবাচক হলেও সরকারের সঙ্গে প্রধান বৈঠকটি তাকে হতাশ করেছে।’

বিবৃতিতে অ্যান্ডি হল জানান, তিনি গত ১ জুলাই বাংলাদেশে পৌঁছান। সফরের ২, ৩ ও ৪ জুলাই তিনি বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অভিবাসী শ্রমিকদের সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠককে তিনি ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ উল্লেখ করে জানান, বাংলাদেশে অভিবাসন খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের চলমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ধারনা পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো নতুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ করা। এ কারণে ৫ জুলাই প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং প্রধান উপদেষ্টার অভিবাসনবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠককে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন।

আরও পড়ুন:

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার বাংলাদেশ ছাড়ার কথা থাকলেও ওই বৈঠকের সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি সফরের সময় বাড়িয়ে রোববার পর্যন্ত অবস্থান করেন।

তবে বৈঠক শেষে তিনি হতাশা প্রকাশ তিনি জানান, তিনি আরও উন্মুক্ত, বিষয়ভিত্তিক এবং সমাধানমুখী আলোচনা প্রত্যাশা করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ এবং সদিচ্ছার বিষয়গুলো পর্যাপ্তভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় দিক থেকেই তিনি হতাশ হয়েছেন।

অ্যান্ডি হল আরও জানান, তার এ বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সমালোচনার উদ্দেশ্যে নয়। বরং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের সুরক্ষার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সৎ ও গঠনমূলক মতামত প্রদান জরুরি বলেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, সফরের সময় যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আন্তরিকতার সঙ্গে তার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। তাদের ইতিবাচক মনোভাবই তাকে বিশ্বাস করতে উৎসাহিত করে যে, নিরাপদ অভিবাসন ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা রাখে।

বাংলাদেশ ত্যাগের আগে অ্যান্ডি হল জানান, তিনি একদিকে বিভিন্ন ইতিবাচক বৈঠকের কারণে আশাবাদী, অন্যদিকে সরকারের সঙ্গে প্রত্যাশিত পর্যায়ের সংলাপ না হওয়ায় হতাশ। ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশ সফরে এসে সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও গঠনমূলক, সম্মানজনক ও বাস্তবভিত্তিক আলোচনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে ভবিষ্যতেও প্রস্তুত থাকার কথা জানান।

এফএস