চলতি বছর বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের প্রায় সব টাকা উঠে গেছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
দেশে এখন
0

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বিরুদ্ধে কাতার বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে শতকোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, এ বছর সরাসরি ফিফার কাছ থেকে ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানকে বিক্রি করায় প্রায় সব টাকা উঠে গেছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফুটবল উন্মাদনায় যখন পুরো দেশ, তখন আড়ালে চলছিলো জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুটের মহোৎসব। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সিদ্ধান্তে খেলা দেখানোর জন্য ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব না কিনে, তা দেয়া হয় ‘তমা কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে।

সরকারি এই ৯৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরও তারা বেসরকারি চ্যানেল টি-স্পোর্টসের কাছে ২২ কোটি এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফির কাছে ১৭ কোটি টাকাসহ আরও ৩৯ কোটি টাকায় সাব-লাইসেন্সিং বিক্রি করে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আয় করে প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা।

অথচ ফিফাকে প্রকৃত ব্যয় হিসেবে দেয়া হয়েছিলো মাত্র ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৮ কোটি টাকার মতো। অর্থাৎ, ফিফার প্রকৃত খরচের পর, চক্রটি সরকারি তহবিল ও বেসরকারি আয় মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকারও বেশি লোপাট করে। তথ্যমন্ত্রী বক্তব্যে উঠে আসে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আরও পড়ুন:

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে কীভাবে বিশ্বকাপ দেখানোর নামে দুর্নীতি হয়েছে, টাকা লুটপাট হয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা ব্যবহার করেছে; রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রে যেভাবে লুটপাট হয়েছে, এখানেও কীভাবে হয়েছে? আর এই সরকারের আমলে মন্ত্রী হিসেবে আমার প্রতি তার নির্দেশই ছিলো যে, খেলা দেখাতে হবে, কিন্তু দেশের এই করুণ অর্থনৈতিক অবস্থার ক্ষেত্রে কোনো টাকা খরচ করা যাবে না।’

সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘লুটপাটের বৃত্ত থেকে এবার সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসেছে সরকার। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ফিফার সঙ্গে দরকষাকষি করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সাব-লাইসেন্সিং এবং বিজ্ঞাপনের রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে এই খরচের প্রায় পুরোটাই তুলে আনা সম্ভব হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এবারে আমাদের একেবারেই নামমাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার মতো ঘাটতি আছে, তাও আমরা এখনও পর্যন্ত সাব লাইসেন্সিং যাদের দিয়েছি, আমরা তাদের সঙ্গে একটা দরকষাকষি করে চলছি যে, এই টাকাটাও.. যদি তাদের বিজ্ঞাপনের আয় ভালো হয় তাহলে এটাও তাদের ঘাড়ে দেয়ার চেষ্টা করবো।’

তথ্য মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার প্রক্রিয়াকে লাভজনক পর্যায়ে নিতে চায় সরকার।’ খেলা দেখানোর নামে টাকা লুটপাট করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

এসএইচ