গ্যাস সংকটে সিটি গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে: ক্যাব সভাপতি

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান
দেশে এখন
1

সরকার পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় সিটি গ্রুপের মতো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমরা মূল্যস্ফীতির কথা বলছি। কিন্তু এর পেছনে আরও অনেক বিষয় রয়েছে। সরকার সঠিকভাবে গ্যাস সরবরাহ দিতে না পারায় সিটি গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান চরম সংকটে পড়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার পথে। একইভাবে জ্বালানি নিরাপত্তার অভাবে বিভিন্ন গার্মেন্টস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ও মূল্যস্ফীতির আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া উচিত।’

সেমিনারে উপস্থাপিত সিপিডির গবেষণায় বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে শুধু উৎপাদন ব্যয় নয়; দীর্ঘ সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজার কাঠামোর দুর্বলতা, অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী, মজুতদারি এবং ব্যবসায়ীদের যোগসাজশও বড় ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, উৎপাদন পর্যায় থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে কোনো কোনো পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। বিশেষ করে চালের ক্ষেত্রে কৃষক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দামের সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয় ব্যাপারি ও মিলার পর্যায়ে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর করার পরামর্শ দেন গবেষকরা।

সেমিনারে কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলেন, ‘শুধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না। উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।’ পাশাপাশি কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর তদারকি জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলেন, ‘গ্যাস সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি শিল্প ও কৃষি খাতকে চাপে ফেলছে, যার প্রভাব পড়ছে বাজারে।’ একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও বাজারে নজরদারির ঘাটতিকেও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দেশের মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ উচ্চ লজিস্টিক ব্যয়। উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর পথে পরিবহন ব্যয়, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অদৃশ্য খরচ মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ব্যয় কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।’

সিপিডির গবেষণায় আরও বলা হয়, পেঁয়াজ, বেগুন, কাঁচামরিচ, মাছ ও গরুর মাংসের বাজারে কমিশনভিত্তিক লেনদেনের আধিক্য রয়েছে। অন্যদিকে মুরগি ও গরুর মাংস উৎপাদনে উচ্চ খাদ্য ব্যয়ের কারণে অনেক খামারি ন্যায্য মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খলকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও দক্ষ করে তোলার তাগিদ দেন সংশ্লিষ্টরা।

জেআর