সবার মত নিয়ে ‘গ্রহণযোগ্য’ সংবিধান সংশোধনী চায় বিশেষ কমিটি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠক
দেশে এখন
0

সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজনৈতিক দলসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করতে চান তারা। আজ (মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির প্রথম বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয় দুপুর দেড়টার দিকে।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু আমরা উদার এবং ওপেন আমরা সবার কথা শুনব। সর্বত্র যা যা সংশোধনের প্রয়োজন সেসব সংশোধনীগুলো আমরা ধারণ করে সেভাবে আমরা রিপোর্ট প্রণয়ন করব।’

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরে বিল যখন আসবে সংবিধান সংশোধনী বিল পার্লামেন্টে আলোচনা করে আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে সেই সংশোধনীটা গ্রহণ করতে চাই। যেই সংশোধনী জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে।’

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে রাখার চেষ্টা করবে কমিটি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের এই নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে আমরা বিবর্তনমূলক কার্যে যাচ্ছি এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে গণতান্ত্রিক সংস্কার আমরা করতে চাই সেগুলো সবগুলো আমরা এখানে এড্রেস করব ধারণ করব যেটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল আছে।’

প্রথম বৈঠকে কার কার সঙ্গে আলোচনা করা হবে, সেই তালিকা এবং আলোচনার দিনক্ষণ ঠিক করার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের মতামত নেয়া হবে।’

কত দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হবে, তা এখনই বলতে পারেননি সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সময়টা এখন নির্ধারণ করে বলতে পারব না।’

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধীদলকে অন্তভুক্ত করতে সরকার তাদের পাঁচজনের নাম দিতে বললেও, তাতে সায় দেয়নি তারা। এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিরোধীদলের পক্ষ থেকে যে পাঁচটি নাম দেয়ার কথা ছিল সেই নামগুলো আমরা এখনো পাইনি আমি আশা করি তারা হয়তো অনুধাবন করবেন একপর্যায়ে তারা হয়তো তাদের নাম দেবেন তাদের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করব।’ বিরোধীদল নাম না দিলেও তাদের সংসদ সদস্যদের মতামত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অথবা বৈঠকের বাইরে লিখিতভাবে প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হবে। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এছাড়া নাম যদি নাও দেয় আমরা সকল বিরোধীদলীয় যারা দল আছেন, সদস্য আছেন, তাদের সকলের পরামর্শ আমরা গ্রহণ করব। তারা যদি মিটিংয়ে এসে দেয় ভালো মিটিং এর বাইরে দিলেও আমরা সেটা গ্রহণ করব। লিখিতভাবে যদি দেয়।’

তিনি বলেন, ‘এইভাবে আমরা একটা গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনতে চাই। এবং জনপ্রত্যাশা সবকিছু আমরা ধারণ করতে চাই। সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে। আমরা সেই রিপোর্টটা প্রণয়ন করতে চাই।’

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব কমিটি পর্যালোচনা করবে বলে জানান সালাহউদ্দিন। যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে নেয়া হবে। যেসব বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছিল, সেগুলো ভিন্নমত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, ‘৪৮টার মধ্যে অনেক কিছু আছে। আমরা এগ্রিড হয়েছি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদে। সেগুলো তো আমরা নেবই। আর যেগুলোতে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি সেগুলো নোট অব ডিসেন্ট আকারে নেব।’

জুলাই সনদের বাইরে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকারও কমিটি পর্যালোচনা করবে বলে জানান সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এর বাইরেও আমাদের অনেক বক্তব্য আছে। আমাদের নির্বাচন ইশতেহারে আছে। সেগুলো আমরা ধারণ করব। যেগুলো জুলাই জাতীয় সনদে প্রতিফলিত হয়নি। আলোচিত হয়েছিল হয়তো প্রতিফলিত হয়নি। সেগুলো আমরা আলোচনা করেই নেব।’

কমিটির কাজকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখছেন না বলে জানান সভাপতি সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রত্যাশা আছে। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ বলতে চাই না।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহিদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। এত বড় একটা ছাত্র গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হলো। জাতির প্রত্যাশা অনেক। শহিদের আকাঙ্ক্ষা ছিল। সেই প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমাদের এই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।’ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংবিধানে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে হবে। এবং এই শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে যদি আমরা ধারণ করতে চাই সংবিধানেই প্রথম আমাদের সবকিছু ধারণ করতে হবে।’

এএইচ