ভোটের সমীকরণ: সংসদে জায়গা পেল মাত্র ১০ দল, শূন্য হাতে ফিরছে বাকি ৪০টি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন
রাজনীতি
0

এবারের নির্বাচনে ৫০টি দল অংশ নিলেও সংসদে আসন নিশ্চিত করতে পেরেছে মাত্র ১০টি দল। এরমধ্যে সিংহভাগ আসনই পেয়েছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি। দলগুলোর শীর্ষ তিন নেতা নির্বাচনে জয় পেলেও হেরে গেছেন অনেক আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থী।

নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬। নির্বাচনের বেসরকারি ফলে বিএনপি জয়লাভ করেছে। তবে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের বেশ কয়েকজন আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয় ঘটে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ওই আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগার। তাদের ভোটের ব্যবধান দুই হাজার ৭০২।

এদিকে, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ এ দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। বরিশাল- আসনে ফয়জুল করিম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট এবং বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট। একইভাবে, বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮২ হাজার ২১৭ ভোট ও ফয়জুল করিম ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট পেয়েছেন।

বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীকে মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:

পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। এছাড়াও ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। আর

ঢাকা-৯ আসনে বেসরকারিভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট।

ঢাকা-১৩ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৯৪টি। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক ৮৩ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এছাড়াও ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এ আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু তালিব।

রংপুর-৩ আসনে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোটে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান। আর লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট।

এছাড়াও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুনকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল।

ইএ