কত টাকা থাকলে যাকাত দিতে হবে? জেনে নিন শরিয়তের বিধান

যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তাবলী
ধর্ম ও বিশ্বাস
0

যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের (Five Pillars of Islam) অন্যতম এবং ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। ‘যাকাত’ (Zakat) শব্দের অর্থ পবিত্রতা ও প্রবৃদ্ধি। এটি মানুষের অর্জিত সম্পদকে যেমন পবিত্র করে, তেমনি সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। পবিত্র কোরআনে নামাজের (Salah) পাশাপাশি যাকাত আদায়ের নির্দেশ ৮২ বার এসেছে।

সম্পদের ধরণ (Type of Wealth) নিসাব বা পরিমাণ (Amount)
স্বর্ণ বা সোনা (Gold) সাড়ে সাত ভরি বা ৮৭.৪৮ গ্রাম
রুপা (Silver) সাড়ে বায়ান্ন তোলা বা ৬১২.৩৬ গ্রাম
নগদ অর্থ বা পণ্য (Cash/Goods) সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্য
যাকাতের হার (Zakat Rate) সম্পদের ২.৫০ শতাংশ (শতকরা আড়াই টাকা)

আরও পড়ুন:

যাকাতের গুরুত্ব ও কোরআনের নির্দেশনা (Importance of Zakat in Quran)

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা নামাজ আদায় করো এবং যাকাত প্রদান করো।’ (সুরা আল-বাকারা: ১১০)। যাকাত ফরজ হওয়া অস্বীকার করলে ব্যক্তি ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কেও আল্লাহ তাআলা যাকাত সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে মানুষের সম্পদ পরিশুদ্ধ হয়।

যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ: কাদের ওপর যাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক?

যাকাত (Zakat) ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। তবে সবার ওপর যাকাত ফরজ নয়। একজন মুসলিম নর-নারীর ওপর যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য ইসলামি শরিয়তে (Islamic Sharia) নির্দিষ্ট কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ হলেই কেবল ওই ব্যক্তির ওপর যাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক হয়।

যাকাত ফরজ হওয়ার প্রধান শর্তাবলি (Conditions for Zakat to be Mandatory)

যেকোনো স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক (Adult) এবং সুস্থ মস্তিস্কের মুসলিম নর-নারী যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ (Nisab amount of wealth) আছে, তাকেই যাকাত আদায় করতে হবে। যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য মূলত ৬টি মৌলিক শর্ত রয়েছে:

ক্রমিক শর্তের বিবরণ (Condition Details)
০১ সম্পদের পূর্ণাঙ্গ মালিকানা: সম্পদের ওপর ব্যক্তির নিরঙ্কুশ ও পূর্ণ মালিকানা (Full ownership) থাকতে হবে।
০২ সম্পদ বর্ধনশীল হওয়া: সম্পদটি অবশ্যই বর্ধনশীল (Productive wealth) হতে হবে, যা থেকে মুনাফা বা বৃদ্ধি সম্ভব।
০৩ নিসাব পরিমাণ সম্পদ: সম্পদের পরিমাণ অন্তত শরিয়ত নির্ধারিত নিসাব (Nisab threshold) পর্যন্ত হতে হবে।
০৪ মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত: সারা বছরের মৌলিক প্রয়োজন (Basic necessities) মেটানোর পর উদ্বৃত্ত সম্পদ থাকতে হবে।
০৫ ঋণমুক্ত হওয়া: ঋণ পরিশোধ করার পর যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, তবেই যাকাত ফরজ (Debt-free condition)।
০৬ এক বছর স্থায়িত্ব: নিসাব পরিমাণ সম্পদ ব্যক্তির কাছে পূর্ণ এক বছর (One lunar year) স্থায়ী হতে হবে।

আরও পড়ুন:

যাকাতের নিসাব কী? (What is Nisab for Zakat?)

দৈনন্দিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দেওয়ার পর যদি কারো কাছে শরিয়ত নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ এক বছর স্থায়ী থাকে, তবে তাকে যাকাত দিতে হবে। যাকাতের এই নির্ধারিত পরিমাণকেই ‘নিসাব’ (Nisab) বলা হয়।

টাকা ও ব্যবসার পণ্যের হিসাব (Calculation on Cash and Business Goods)

দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও ব্যবসায়িক পণ্যের নিসাব নির্ধারণে সোনা ও রুপাকে পরিমাপক হিসেবে ধরা হয়। বর্তমান যুগে ফকির-মিসকিনদের স্বার্থ রক্ষার্থে রুপার নিসাবকেই (Silver Standard) পরিমাপক ধরা শ্রেয়। অর্থাৎ কারো কাছে যদি সাড়ে ৫২ তোলা রুপার দামের সমান নগদ টাকা, ব্যাংক ব্যালান্স (Bank Balance), ফিক্সড ডিপোজিট (FDR), বন্ড বা শেয়ার থাকে, তবে তাকে যাকাত দিতে হবে।

যেসব সম্পদে জাকাত ফরজ: ২০২৬ সালের নিসাব ও হিসাব করার নিয়ম

জাকাত (Zakat) ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ, যা সম্পদকে পবিত্র ও বরকতময় করে। তবে সব ধরনের সম্পদে জাকাত ফরজ হয় না। শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট কিছু সম্পদ যদি নিসাব পরিমাণ (Nisab amount) থাকে, তবেই তার ওপর জাকাত প্রদান করা বাধ্যতামূলক হয়। সাধারণত সোনা-রুপা, নগদ টাকা এবং ব্যবসায়িক পণ্যের ওপর জাকাত ফরজ হয়। নিচে এর একটি বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:

যেসব সম্পদে যাকাত ফরজ হয় (Wealth Subject to Zakat)

সব ধরনের সম্পদে যাকাত ফরজ হয় না। প্রধানত নিচের ক্ষেত্রগুলোতে যাকাত দিতে হয়:

  • সোনা-রুপার অলংকার (Gold and Silver Ornaments): ব্যবহৃত হোক বা না হোক, নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে।
  • নগদ টাকা (Cash Money): ব্যাংকে জমানো টাকা বা হাতে থাকা উদ্বৃত্ত অর্থ।
  • ব্যবসায়িক পণ্য (Trading Goods): বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা সব ধরণের মালামাল।
  • পালিত পশু ও কৃষিজাত ফসল: শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এগুলোর ওপরও যাকাত বা উশর প্রযোজ্য হয়।

উল্লেখ্য যে, মৌলিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত বাড়ি-গাড়ি, আসবাবপত্র বা পোশাকের ওপর যাকাত ফরজ নয়। সম্পদের ৪০ ভাগের এক ভাগ (১/৪০) বা হাজারে ২৫ টাকা হারে যাকাত আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর ফরজ (Fardh)।

সম্পদের ধরন বিস্তারিত বিবরণ (Details)
মূল্যবান ধাতু সোনা ও রুপা (অলংকার বা বিস্কুট আকার যাই হোক)
ব্যাংক ও সঞ্চয় ব্যাংকে সঞ্চিত টাকা, ফিক্সড ডিপোজিট (FDR), বন্ড ও শেয়ার
জমানো অর্থ হজ, ঘরবাড়ি বা বিয়ের জন্য জমা রাখা অতিরিক্ত অর্থ
ব্যবসায়িক পণ্য দোকানের মালামাল, বিক্রির জন্য সংরক্ষিত পণ্য ও ব্যবসায়িক প্লট
বিনিয়োগ ও ভাড়া বিনিয়োগের প্লট এবং বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত অর্থ

যাকাত ক্যালকুলেটর টেবিল (নমুনা হিসাব)

যাকাতের হিসাব করা খুব কঠিন কিছু নয়। তবে এটি সঠিকভাবে করার জন্য আপনার মোট সম্পদের একটি তালিকা তৈরি করতে হয়। শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী আপনার নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ ও ঋণ বাদ দেওয়ার পর উদ্বৃত্ত সম্পদের ওপর ২.৫০% (শতকরা আড়াই টাকা) হারে যাকাত দিতে হয়।

সম্পদের বিবরণ (Assets Description) পরিমাণ/মূল্য (টাকায়)
১. নগদ টাকা (হাতে ও ব্যাংকে) ১,০০,০০০
২. স্বর্ণ/রুপার বর্তমান বাজারমূল্য ২,০০,০০০
৩. ব্যবসার মালামাল বা স্টক ১,৫০,০০০
মোট জাকাতযোগ্য সম্পদ (A) ৪,৫০,০০০
৪. বাদ যাবে (ব্যক্তিগত ঋণ ও দেনা) (B) ৫০,০০০
নিট সম্পদ (A - B) ৪,০০,০০০
মোট প্রদেয় যাকাত (২.৫০%) ১০,০০০ টাকা

মনে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Points):

এক বছর স্থায়িত্ব: আপনার নিসাব পরিমাণ সম্পদটি অবশ্যই আপনার কাছে চাঁদ পঞ্জিকা অনুযায়ী ১ বছর (Lunar Year) থাকতে হবে।

কোন মূল্যে হিসাব করবেন: সোনা বা ব্যবসার মালের ক্ষেত্রে আপনি যেদিন যাকাত হিসাব করছেন, সেদিনের বর্তমান বাজারমূল্য (Current Market Value) ধরতে হবে। আপনি কত দামে কিনেছিলেন সেটা বড় কথা নয়।

জমি ও বাড়ি: নিজের থাকার বাড়ি বা ব্যবহারের গাড়ির ওপর যাকাত নেই। কিন্তু যদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে বা বিক্রির জন্য জমি/ফ্ল্যাট কিনে রাখেন, তবে সেটার বর্তমান মূল্যের ওপর যাকাত দিতে হবে।

আরও পড়ুন:

বর্তমান নিসাব নির্ধারণ (Current Nisab Standard)

বর্তমানে মুদ্রা ও পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণত রুপার নিসাবকে (Silver Standard) পরিমাপক হিসেবে ধরা হয়। সে অনুযায়ী যার কাছে ৫২.৫ তোলা (প্রায় ৬১২.১৫ গ্রাম) রুপা অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ, স্বর্ণ, সঞ্চয়পত্র বা ব্যবসার পণ্য থাকে, তার ওপর জাকাত ফরজ হবে।

সম্মিলিত সম্পদের হিসাব: যদি কারো কাছে আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ সোনা বা রুপা না থাকে, কিন্তু সব মিলিয়ে (সোনা + রুপা + নগদ টাকা + ব্যবসার পণ্য) যদি ৫২.৫ তোলা রুপার সমমূল্য বা তার বেশি হয়, তবে তার ওপর জাকাত ফরজ হবে। উল্লেখ্য যে, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই নিসাব বা ন্যূনতম সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৪,০০০ (চুরাশি হাজার) টাকা বা তার বেশি হতে পারে।

নতুন সম্পদ যুক্ত হলে বিধান (Rules for Newly Added Wealth)

কারো কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে এবং বছরের মাঝখানে নতুন সম্পদ যোগ হলে তা পূর্বের সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হবে। পুরোনো সম্পদের বছর পূর্ণ হলেই মোট সম্পদের ওপর জাকাত (Zakat on total assets) আদায় করতে হবে। এটি মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ও ইবনে আবি শায়বার হাদিস দ্বারা সমর্থিত।

সঠিক সময়ে সঠিকভাবে জাকাত আদায় করলে সম্পদ পবিত্র হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।

যাকাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর-FAQ

প্রশ্ন: কত টাকা বা সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হয়? (What is the minimum amount for Zakat?)

উত্তর: যদি কারো কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা/ব্যবসায়িক পণ্য) থাকে, তবে তার ওপর যাকাত ফরজ হয়।

প্রশ্ন: ২০২৬ সালে রুপার নিসাব অনুযায়ী কত টাকা থাকলে যাকাত দিতে হবে? (Silver Nisab value 2026)

উত্তর: রুপার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ৫২.৫ তোলা রুপার দাম প্রায় ৮৪,০০০ টাকা থেকে ৯০,০০০ টাকার আশেপাশে (বাজারভেদে কম-বেশি হতে পারে)। এই পরিমাণ অর্থ এক বছর থাকলে যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্ন: স্বর্ণের (Gold) নিসাব কত? (Nisab of Gold)

উত্তর: কারো কাছে যদি শুধু স্বর্ণ থাকে এবং তা সাড়ে সাত ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম) বা তার বেশি হয়, তবে তার ওপর যাকাত ফরজ।

প্রশ্ন: নগদ টাকা ও স্বর্ণ-রুপা সব মিলিয়ে থাকলে হিসাব কেমন হবে? (Combined Assets Calculation)

উত্তর: যদি পৃথকভাবে স্বর্ণ বা রুপা নিসাব পরিমাণ না থাকে, তবে সবগুলোর সম্মিলিত মূল্য হিসাব করতে হবে। যদি মোট মূল্য ৫২.৫ তোলা রুপার দামের সমান হয়, তবে যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্ন: ব্যাংকে জমানো টাকার ওপর কি যাকাত দিতে হবে? (Zakat on Bank Savings)

উত্তর: হ্যাঁ, ব্যাংকে জমানো টাকা (Savings), ফিক্সড ডিপোজিট (FDR), ডিপিএস (DPS) বা সঞ্চয়পত্র যদি নিসাব পরিমাণ হয় এবং এক বছর অতিবাহিত হয়, তবে তার ওপর যাকাত ফরজ।

প্রশ্ন: হজ বা বিয়ের জন্য জমানো টাকার কি যাকাত দিতে হবে? (Zakat on savings for Hajj or Marriage)

উত্তর: হ্যাঁ, হজের জন্য বা বিয়ের জন্য টাকা জমিয়ে রাখলেও তা যদি নিসাব পরিমাণ হয় এবং বছর পূর্ণ হয়, তবে সেই টাকার ওপর যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্ন: ঋণী ব্যক্তির যাকাতের বিধান কী? (Zakat for Debtors)

উত্তর: কারো কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেও যদি তার ওপর এমন ঋণ থাকে যা শোধ করলে সম্পদ নিসাবের নিচে নেমে যায়, তবে তার ওপর যাকাত ফরজ নয়।

প্রশ্ন: যাকাত কত শতাংশ হারে দিতে হয়? (What is the Zakat rate?)

উত্তর: যাকাত দিতে হয় মোট সম্পদের ২.৫০ শতাংশ (2.50%) হারে। অর্থাৎ প্রতি ১ লাখ টাকায় ২,৫০০ টাকা।

প্রশ্ন: ডিপিএস (DPS) এর ওপর যাকাত কীভাবে হিসাব করব? (How to calculate Zakat on DPS?)

উত্তর: ডিপিএস-এ আপনি মোট যত টাকা জমা করেছেন (মুনাফাসহ), বছর শেষে সেই সম্পূর্ণ অংকের ওপর ২.৫০% হারে যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্ন: ব্যবসার পণ্যের ওপর যাকাত কীভাবে দিতে হয়? (Zakat on Business Goods)

উত্তর: ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা মালামাল বা স্টকের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করে তার ওপর যাকাত দিতে হবে। তবে দোকানের ডেকোরেশন বা আসবাবপত্রের ওপর যাকাত নেই।

প্রশ্ন: ব্যবহারের অলংকারের ওপর কি যাকাত ফরজ? (Zakat on used jewelry)

উত্তর: হ্যাঁ, সোনা বা রুপার অলংকার ব্যক্তিগত ব্যবহারে থাকুক বা আলমারিতে তোলা থাকুক, নিসাব পরিমাণ হলে তার ওপর যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্ন:যাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি কারা? (Who are eligible for Zakat?)

উত্তর: পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আট শ্রেণির মানুষ যাকাত পেতে পারেন। এর মধ্যে প্রধানত ফকির, মিসকিন, অভাবী এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত।

প্রশ্ন: নিজের আত্মীয়-স্বজনকে কি যাকাত দেওয়া যায়? (Can Zakat be given to relatives?)

উত্তর: হ্যাঁ, নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং নিজ সন্তান ছাড়া অন্য গরিব আত্মীয়দের (যেমন: ভাই, বোন, চাচা, ফুফু) যাকাত দেওয়া উত্তম। এতে যাকাত ও আত্মীয়তার হক—উভয়ই আদায় হয়।

প্রশ্ন: যাকাত কি শুধু রমজান মাসেই দিতে হয়? (Should Zakat be paid only in Ramadan?)

উত্তর: না, যাকাত বছরের যেকোনো সময় দেওয়া যায়। তবে সম্পদের মালিক হওয়ার পর এক বছর পূর্ণ হলেই যাকাত দিতে হয়। সওয়াব বেশি পাওয়ার আশায় অনেকে রমজান মাসে এটি আদায় করেন।

প্রশ্ন: যাকাত না দিলে কী হয়? (Consequences of not paying Zakat)

উত্তর: যাকাত না দেওয়া কবীরা গুনাহ। এটি অস্বীকারকারী ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। এছাড়া যাকাত না দিলে সম্পদ অপবিত্র হয়ে যায় এবং পরকালে কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে।


এসআর