নতুনত্বকে সঙ্গী করেই গেল কয়েক বছর ধরে শারদোৎসবে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরেছে মধ্য কলকাতার মিত্র স্কয়ারের দুর্গাপূজার আয়োজন। ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় এই সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পূজা এবছর ৯১তম বছরে পদার্পণ করলো। মণ্ডপজুড়ে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা ও সাউন্ড বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে বাসিন্দাদের মধ্যে।
মণ্ডপের প্রবেশপথেই তৈরি করা হয়েছে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসির মঞ্চ। মূল মণ্ডপ তৈরি হয়েছে দিল্লির লালকেল্লার আদলে। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন সংগ্রামের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে শিল্পকর্মের মাধ্যমে। যেখানে স্থান পেয়েছে বন্দে মাতরম -এর স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিও। মণ্ডপের দেয়ালজুড়ে রয়েছে বিপ্লবীদের ছবি এবং তাদের অবদানের নানা বিবরণ।
প্রতি বারের মতো এবারও প্রতিমার রূপে কোনো পরিবর্তন আনেনি পুজা কমিটি। চিরাচরিত ঘরানাতেই রয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। তবে স্বাধীনতার ইতিহাসের পাশাপাশি দেশভাগের যন্ত্রণাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপে। যেখানে ভিটেমাটি ছেড়ে ট্রেনে করে দেশান্তরি হওয়া উদ্বাস্তু মানুষদের চিত্রও শোভা পাচ্ছে।
ভিন্নধর্মী আয়োজন দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছেন দর্শনার্থীরা। তবে তাদের মাঝে নেই কোনো ক্লান্তির ছাপ। কলকাতা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকেও মানুষের ঢল নেমেছে এই মণ্ডপে।
লাখো মানুষের ভিড়ে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান সন্তোষ মিত্র স্কয়ার ক্লাবের কর্মকর্তা ও বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা পূরণই মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সন্তোষ মিত্র স্কয়ারের পূজা উদ্যোক্তা সজল ঘোষ বলেন, আমাদের পূজাতে প্রতিবছর এমন ভিড় হয়। আমরা বছরের পর বছর ধরে এমন ভিড় দেখে আসছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিনব এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে দেশের অজানা ইতিহাস।





