বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার ডিজিটাল হাতিয়ার: শিক্ষার্থীদের ভরসা এখন প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বাড়ছে
তথ্য-প্রযুক্তি
শিক্ষা
0

মোবাইল ফোন এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এটি হয়ে ওঠেছে লেখাপড়ার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। ক্লাস নোট থেকে শুরু করে সময় ব্যবস্থাপনা, অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট কিংবা মনোযোগ ধরে রাখা—সবকিছুতেই বাড়ছে বিভিন্ন প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপের ব্যবহার। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা আরও সহজ ও গোছানো করছে।

শিক্ষার্থীদের হাতে বই-খাতার পাশাপাশি এখন জায়গা করে নিয়েছে স্মার্টফোন। আর সেই ফোনেই কয়েকটি অ্যাপ বদলে দিচ্ছে পড়াশোনার ধরন।

এরমধ্যে নোট সংরক্ষণ ও দ্রুত লেখার জন্য জনপ্রিয় গুগল কিপ। এটির মাধ্যমে রঙিন নোট, ভয়েস নোট কিংবা টু-ডু লিস্ট সহজেই সংরক্ষণ করা যায়। আর পড়াশোনার পরিকল্পনা, রুটিন ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে ব্যবহার হচ্ছে নোশন। এটির মাধ্যমে ক্লাস রুটিন, নোট আর অ্যাসাইনমেন্ট গুছিয়ে রাখা যায়। ডিজিটাল খাতার মতো কাজ করে মাইক্রোসফট ওয়াননোট। এর মাধ্যমে হাতের লেখা, ছবি কিংবা পিডিএফ যুক্ত করেও তৈরি করা যায় নোট। সময়মতো পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি মনে করিয়ে দিতে সহায়তা করে গুগল ক্যালেন্ডার। পড়ার সময় মোবাইল আসক্তি কমাতে অনেক শিক্ষার্থী ব্যবহার করছে ফরেস্ট।

এদিকে, দৈনন্দিন কাজের তালিকা তৈরি ও সময়মতো শেষ করতে সাহায্য করে টু-ডু লিস্ট। ইংরেজি লেখায় বানান ও ব্যাকরণ ঠিক রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে গ্রামারলি। আর অনলাইন ক্লাস ও গ্রুপ মিটিংয়ের জন্য জনপ্রিয় জুম। নোট, ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অনলাইনে সংরক্ষণে কাজে লাগে গুগল ড্রাইভ। আর গণিতের জটিল সমাধান বুঝতে অনেক শিক্ষার্থীর পছন্দ ফোটোম্যাথ।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসব অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই তথ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে। ফলে, শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব অ্যাপ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

তারা জানান, শিক্ষার্থীরা করোনা প্যান্ডেমিকের সময় থেকে শুরু করে অনলাইন সেকশনে জুম অ্যাপের মাধ্যমে যে ক্লাসগুলো অনলাইন প্লাটফর্মে করছি সেগুলো ছিলো খুবই সময়োপযোগী। যেকোনো বিষয় খুব সহজেই অ্যাক্সেস করা যাচ্ছে। কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, সেই সীমাবদ্ধতাগুলোকে যদি প্রসারিত করা যায় তাহলে এই লেখাপড়ার যে সুযোগ সেটা আরও অনেক সুবিধা হবে।

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে করছে আরও স্মার্ট ও সময়োপযোগী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অ্যাপ ব্যবহার করলেই হবে না, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা আর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপগুলো শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনা, নোট সংরক্ষণ ও শেখার দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। তবে পড়াশোনার মূল লক্ষ্য ঠিক রেখে প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান তাদের।

শিক্ষাবিদ ড. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আগে যেমন আমরা একটা বই পড়তাম, বই পড়ে এখানে আমাদের যে জ্ঞান আহরণ করতে যে সময়টা লাগতো, সেটা কিন্তু এখন মানে খুব ফাস্টার হচ্ছে। রিলস আসার পরে যেখানে এই রিলসগুলো কিন্তু খুব ছোট ছোট হয়। তো ছোট ছোট হওয়ার কারণে এখানে আমরা একটা ইভেন এখন দেখা যায় যে পাঁচ মিনিট ব্যাপী যদি কোনো একটা লার্নিং কন্টেন্টও থাকে, সেখানেও কিন্তু ফোকাস করাটা খুব ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। সো এইটা একটা বড় প্রবলেম বলে আমি মনে করি।

সঠিক ব্যবহার হলে প্রযুক্তিই হতে পারে পড়াশোনার সবচেয়ে বড় সহায়ক। স্মার্ট স্টাডির এই যুগে তাই শিক্ষার্থীদের কাছেও বাড়ছে প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপের জনপ্রিয়তা।

ইএ