মুদ্রানীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস; বছরে চারবার ঘোষণার পরিকল্পনা

ফ্লোরা শিমু
ঢাকা
শাপলা চত্বর
অর্থনীতি
বিশেষ প্রতিবেদন
0

দেশের মুদ্রানীতি ঘোষণা ও বাস্তবায়নে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বছরে দুইবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলেও, এখন তা বাড়িয়ে বছরে চারবার করার পরিকল্পনা করছে সংসদীয় কমিটি। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নির্দেশনা পেলে তারা এটি বাস্তবায়নে প্রস্তুত। তবে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।


বছরে দুইবার নয়, এখন থেকে তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণার কথা ভাবছে সরকার। সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে বছরে চারবার মুদ্রানীতি ঘোষণার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যার মূল উদ্দেশ্য দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া।

এমন এক সময় এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার যখন নাজুক সময় পার করছে দেশের অর্থনীতি। তবে এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘মনিটারি পলিসি প্রতি কোয়ার্টারে যে একটা স্টেটমেন্ট যদি বের করা হয়, তাহলে তিন মাস পর পর পুরো ইকোনমির হালচিত্র, হালনাগাদ চিত্র, রিয়েল ইকোনমি এবং ম্যাক্রোইকোনমিক ভ্যারিয়েবল এবং সুদের হার নির্ধারণ সবকিছু অ্যালাইন হবে। আরেকটা জিনিস হলো আমাদের ইকোনমিটা এতো মেচিউর না। ডাটা ল্যাকিং আছে আমাদের। আমাদের এই কোয়ার্টারের ডাটা আরেক কোয়ার্টারে গিয়ে পাবলিশ হয়, বিশেষ করে রিয়েল সেক্টরের ডাটা। তখন কোয়ার্টারলি করলে একটা অসুবিধা হবে, যে আমাদের এই কোয়ার্টারের জন্য আলোচনা করবো সে কোয়ার্টারের ডাটা নেই। ব্যাক ডাটা নিয়ে কাজ করতে হয় আরকি।’

তথ্য বলছে, উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশেই বছরে কয়েকবার মুদ্রানীতি পর্যালোচনার রেওয়াজ আছে। বছরে আটবার করে মুদ্রানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আর পাশের দেশ ভারত করে বছরে ৬ বার।

আরও পড়ুন:

এমন সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেব দেখলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সন্দেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি যদি কঠিন থাকেন, যে এক বছরের জন্য করলাম মানে এক বছরের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না, তখন সেটা এক বছরে আপনি ক্ষতির সম্মুখীন হলেও তখন আপনি সেটাকে আর কারেকশন করতে পারছেন না। তো কারেকশন করার সুযোগ থাকা উচিত। তিন মাস হোক, ছয় মাস অন্তর হোক। অতএব, যখন যে প্রেক্ষিতে নেয়া উচিত, তখন যদি তারা ডিসিশন নিয়ে সেটাকে চেঞ্জ করে, সেটা কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য, দেশের অর্থনীতির জন্য সেটা করতে পারে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নিয়ম মেনে বছরে দুইবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারের পক্ষ থেকে যদি বছরে চারবার করার সিদ্ধান্ত আসে তবে তা বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত মুদ্রানীতি প্রণয়নকারী এই সংস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা বছরে দুইবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করে থাকি—ডিসেম্বর প্রান্তিক এবং জুন প্রান্তিক। এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যদি বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেয় যে তারা কোয়ার্টারলি বেসিসে যাতে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি ঘোষণা করে, এ নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকে আসার পরে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা এক্সিকিউট করবে।’

মুদ্রানীতি ঘোষণার দীর্ঘ দিনের চিরাচরিত প্রথা ভেঙ্গে বছরে চারবারে এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এফএস