‘মার্লিন বাই বোলা’ বিশ্বমানের একটি স্পিন বোলিং মেশিন, যা মূলত পেশাদার ক্রিকেটারদের স্পিন খেলার প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত করতে তৈরি।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এ মেশিনটি লেগ স্পিন, অফ স্পিন, ড্রিফট এবং টার্নসহ প্রায় সব ধরনের স্পিন ডেলিভারি করতে সক্ষম।
এ মেশিনের অন্যতম বড় সুবিধা হলো, এর সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। একটি কন্ট্রোল প্যানেলের মাধ্যমে বলের লাইন, গতি, ফ্লাইট এমনকি টপ স্পিন বা সাইড স্পিনও সহজেই নির্ধারণ করা যায়। ফলে ব্যাটাররা নিজেদের দুর্বল জায়গাগুলোতে আলাদা করে কাজ করার সুযোগ পান।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘স্পিন বোলিংয়ের কোনো একটা নির্দিষ্ট জায়গা নিয়ে যদি কাজ করা হয়, তাহলে ওটার কনসিস্টেন্সি মেইনটেইন করা হয়। স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে ভালো করার জন্য অনুশীলনে এ মেশিনটি ব্যবহার করা হবে।’
এতে রয়েছে ২৮ বলের স্বয়ংক্রিয় ফিডার, যা নিরবচ্ছিন্ন ব্যাটিং অনুশীলন নিশ্চিত করে। পাশাপাশি লেজার সাইটিং ও এলইডি অ্যানিমেশন স্ক্রিনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি অনুশীলনকে আরও কার্যকর করে তোলে।
আরও পড়ুন:
শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘ডানহাতি বোলারের ক্ষেত্রে যদি এটা অফস্পিন হয়, তাহলে বাঁহাতি বোলারের ক্ষেত্রে সেটা হবে চায়নাম্যান। এটা যদি আপনি লেগস্পিন চিন্তা করেন, তাহলে বাঁহাতি বোলারের জন্য এটা অফস্পিন হবে। তো সব ধরনের স্পিনই খেলা যায়, পাশাপাশি আর্মার বলও খেলা যায়।’
তিনি বলেন, ‘বলের লেংথ ও পেস পরিবর্তন করা যায়। পাশাপাশি এটা ম্যানুয়ালি এবং অটোমেটেড দুইভাবেই অপারেট করা যায়। প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বল একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়।’
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ মেশিনটি বাস্তব স্পিনারদের মতো বল করতে পারে। কিংবদন্তি স্পিনারদের অ্যাকশন অনুকরণ করে তৈরি হওয়ায় ব্যাটারদের ফুটওয়ার্ক উন্নত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো আন্তর্জাতিক দলগুলো স্পিন সহায়ক কন্ডিশনের প্রস্তুতির জন্য এ মেশিন ব্যবহার করছে নিয়মিত।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে এ স্পিন বোলিং মেশিনের আগমন অনুশীলনে আনতে পারে নতুন মাত্রা আর বাড়াতে পারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা।




