স্কোরবোর্ড কিংবা পরিসংখ্যান নিছকই সংখ্যা মাত্র। রাওয়ালপিন্ডি, গল, ক্রাইস্টচার্চের পর সিলেটেও আরও একবার প্রমাণ করলেন লিটন কুমার দাস। প্রথম টেস্ট হেরে চাপে থাকা পাকিস্তান সিলেট টেস্টে চেপে ধরেছিলো টাইগারদের।
পাক পেসারদের সুইংয়ে ১১৬ রানেই ৬ উইকেট শেষ বাংলাদেশের। চোখ রাঙানি দিচ্ছিলো দেড়শোর নিচেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা। তবে টেল এন্ডারদের নিয়ে ৬০, ৩৮ ও ৬৪ রানের জুটিতে দলকে দিয়েছেন ২৭৮ রানের পুঁজি। নিজে হাঁকিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি। পাক বোলারদের কাউন্টার অ্যাটাক করে খেলেছেন ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
লিটনের ইনিংসটা ঠিকই রেকর্ডেড থাকবে। কিন্তু স্ট্রাইক বদল হলেই তাইজুল-তাসকিন-শরিফুলদের ব্যাটিং কৌশল কিংবা উৎসাহ দেয়াটা পরিসংখ্যানে উঠবে না। ৩৮ ওভার ২ বলে প্রথম ছয় উইকেট পতনের পরও আরও ৩৮ দশমিক ৪ ওভার ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। যার ২২৮ বলের মধ্যে ১৪৫ বলই ফেস করেছেন লিটন। নিজে ঝুঁকি নিয়ে উইকেট টেকিং বোলারদের থেকে যতটা সম্ভব আড়ালে রেখেছেন টেলএন্ডারদের।
আরও পড়ুন:
শুধু সিলেট টেস্টেই নয় রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজ ডিসাইডারে ২০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ১৩৮ রানে মহাকাব্যিক ইনিংস। লিটনের ব্যাটে ভর করেই পাকিস্তানের মাটিতে তাদেরকেই টেস্ট সিরিজ হারানোর ইতিহাস গড়েছিলো বাংলাদেশ।
২০২২ সালে মিরপুর টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবারো ব্যর্থ টপ অর্ডার। ২৪ রানেই ৫ উইকেট খোয়ানো বাংলাদেশ সেদিন লিটনের ১৪১ রানের ইনিংসে ভর করেই শেষ পর্যন্ত ৩৬৯ রানের পুঁজি
গড়েছিলো। এছাড়াও ক্রাইস্টচার্চ কিংবা মাউন্ট মঙ্গানুইতেও চাপের জয় করে হেসেছে লিটনের ব্যাট। আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও লিটনের এমন একাধিক ইনিংস আছে যেসব ইনিংসে এলকেডি বারংবার দলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩৫ এর ওপর গড় সবসময় লিটনের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করবে না। কিন্তু যখনই দলের প্রয়োজন তখনই তিনি অনন্য। বিশেষ করে টেলএন্ডারদের নিয়ে ব্যাট করা ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন শিল্প। আর সেই শিল্পে লিটনের আরেকটি মাস্টারক্লাস। চাপের মুখে লোয়ার অর্ডারদের গাইড করার দক্ষতা প্রমাণ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন ক্রাইসিস ম্যান কিংবা পাথ ব্রেকার এখন লিটন কুমার দাস।





