বাড়ির আশপাশে ব্যাট-বল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো ছেলেটি বড় স্বপ্ন দেখতেন। বড় ভাইয়ের সঙ্গে টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতে খেলতে একসময় বুঝে যান, ব্যাট হাতে তার একটা আলাদা প্রতিভা আছে। শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও কম যান না মশিউর। জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে নিজেকে প্রমাণও করেছেন তিনি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী যেকোনো কিশোরের কাছেই এক বিশেষ জায়গা। মশিউরও এই মাঠে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন বহুবার। স্বপ্ন দেখেছেন একদিন এই মাঠেই খেলার।
সেই স্বপ্ন পূরণ হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের হাত ধরে। প্রথমবারের মতো মিরপুরের সেই মাঠে খেলার সুযোগ পান তিনি। আর সেখানেই বাজিমাত করে বসেন রাজবাড়ির এই নতুন কুঁড়ি। ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিপক্ষে খেলতে নেমে ম্যাচ জেতানো এক ইনিংস উপহার দেন মশিউর। ৩৭ বলে খেলেন ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস, যেখানে ছিল ৮টি করে চার ও ছক্কার মার। তার এই ব্যাটিং তাণ্ডবে ভর করে নির্ধারিত ১০ ওভারে ফরিদপুর অঞ্চল তোলে ১৩৬ রান।
আরও পড়ুন:
শুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও ছিলেন সমান কার্যকর—২২ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। তার এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সামনে ৮৬ রানেই থেমে যায় ময়মনসিংহ অঞ্চল।
দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমকে পছন্দ মশিউরের। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পছন্দের তালিকায় নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং শৈলীর প্রতীক কেইন উইলিয়ামসন।
ম্যাচ শেষে মতিউর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দলকে জেতাতে পেরে ভালো লাগছে। আমার বাবা-মা গ্যালারীতে ছিলেন। আমি খুবই খুশি। উইকেট ভালো ছিল। ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। আশা করি দলকে ফাইনালে তুলতে পারবো।’
ফরিদপুর জেলা দলের কোচ তানভির আহমেদ রাজিব বলেন, ‘দারুণ ইনিংস খেলেছে মশিউর। জেলা পর্যায়েও দারুণ করেছে। আশা করি নির্বাচকরা মশিউরকে বিবেচনায় রাখবেন।’
আরও পড়ুন:
প্রতিভার কোনো ঠিকানা হয় না। রাজবাড়ির অলিগলি থেকে মিরপুরের মঞ্চ পর্যন্ত আসা মশিউরের এই যাত্রাই তার প্রমাণ। প্রয়োজন শুধু একটা সুযোগ। সেটি করে দিয়েছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস।
এ কার্যক্রম তৃণমূলের প্রতিভাদের সামনে নিয়ে আসছে জাতীয় মঞ্চে। তাতে মশিউরের মতো আরও কত সম্ভাবনাময় তরুণ যে একদিন দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবেন, তা এখনই বলা কঠিন। তবে ৩৭ বলে ৯০ রানের সেই ইনিংস যেন জানিয়ে দিয়ে গেলেন রাজবাড়ির এই তরুণের স্বপ্নটা মোটেও ছোট নয়।





