গতি, বাউন্স আর আতঙ্ক—অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের চিরচেনা রূপ এটি। ইতিহাস বলছে, যুগে যুগে অজি পেস বোলিং আক্রমণ বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তারের মূল চালিকাশক্তি।
বর্তমান পেস অ্যাটাকও সেই ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখেছে। তবে ৩৩ বছর বয়সী প্যাট কামিন্স, ৩৫-এর হ্যাজেলউড কিংবা ৩৬-এর মিচেল স্টার্ক আর ৩৭ বছর বয়সী স্কট বোল্যান্ডদের পারফরম্যান্সের ধার থাকলেও বাড়ছে শঙ্কা। সামনে থাকা মাত্র ১২ মাসের মধ্যে টানা ২০টি টেস্টের ব্যস্ত সূচিতে নিজেদের ধরে রাখা যেমন কঠিন, তেমনি একাধিক ফরম্যাট সামলানোর ধকলও এখন স্পষ্ট বোলারদের কণ্ঠে।
অস্ট্রেলিয়া ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক বলেন, ‘৩৬ বছর বয়সে এসে তিনটি ফরম্যাটেই একইভাবে খেলা এখন আমার জন্য খুবই কঠিন। সে কারণেই আমি একটি সাদা বলের ফরম্যাট ছেড়ে দিয়েছি। একই সাথে তিনটি ফরম্যাটে মানিয়ে নেয়াটা কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জানা।’
স্টার্কের কথার সুরেই লুকিয়ে আছে আসল শঙ্কা। আন্তর্জাতিক মানের বোলিং উপহার দেয়ার মতো বিকল্প বোলার পাইপলাইনে কম। ল্যান্স মরিস থেকে শুরু করে তরুণ কালাম ভিডলারের মতো প্রতিশ্রুতিশীল পেসাররা প্রতিনিয়ত ভুগছেন বিভিন্ন মারাত্মক ইনজুরিতে। ফলে তৈরি হচ্ছে না ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ধারাবাহিকভাবে বল ছুড়তে পারা বোলার।
অ্যান্ড্র ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমি চাই না নতুন বোলারদের সরাসরি পুরোনোদের সাথে তুলনা করা হোক। আমি চাই এই তরুণরা যেন নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করে এবং তাদের উপযুক্ত সময় দেওয়া হোক। আশা করি আমাদের এই অভিজ্ঞ দলের আরও কয়েক বছর দেয়ার মতো শক্তি আছে, যা তরুণদের প্রস্তুত হওয়ার মাঝের গ্যাপটা পূরণ করবে।’
পেস বোলিংয়ের সমৃদ্ধ অতীত আর বর্তমানের রাজত্ব পার করে সময়ের সাথে এই লড়াইটা এখন অস্ট্রেলিয়ার মূল পরীক্ষা। বর্তমান অভিজ্ঞরা যখন বিদায় নেবেন, তখন হাল ধরবেন কে?
ক্যালম ভিডলার, মাহলি বিয়ার্ডম্যান, চার্লি অ্যান্ডারসন কিংবা টম স্ট্যাকারকে ভাবা হচ্ছে ভবিষ্যতের তারকা পেস বোলার। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের পারফরম্যান্সও নজর কাড়ার মতো। এখন দেখার বিষয়, কামিন্স-স্টার্কদের বিকল্প হিসেবে তারা কি নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবেন, নাকি পেস সংকটের দিকে এগোবে অজি ক্রিকেট? উত্তর বলে দেবে সময়।





