অজিদের চাপ বাড়ছেই— প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্ট

ম্যাচে বল ধরার চেষ্টায় ঝাপিয়ে পড়েছেন ট্র্যাভিস হেড
ক্রিকেট
এখন মাঠে
0

ডারউইন টেস্টে তৃতীয় দিনে দুই ইনিংসের খেলা শেষ হলো। দুই ইনিংসের প্রায় পুরোটা সময়ই নিয়ন্ত্রণ করেছে বাংলাদেশ, আর অস্ট্রেলিয়া করেছে কেবলই সেই নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরোনোর চেষ্টা। দুই ইনিংস শেষে বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড তো সেই কথায় বলে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় ডারউইনে তৃতীয় দিনেও ম্যাচের পাল্লাটা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের দিকেই ভারী। কেননা এরই মধ্যে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করেছে টাইগাররা।

তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ খেলতে নামে ১৫৩ রানে এগিয়ে থেকে। সেই ১৫৩ রানের লিড শেষ পর্যন্ত গিয়ে থামলো ২২৮ রানে, যা নিঃসন্দেহে বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে অজিদের। গত দিন দেখেশুনে খেলে দিন শেষ করা দুই ব্যাটার মিরাজ ও হাসান আজও শুরু করেন। তবে দিনের চতুর্থ ওভারেই ফিরে যেতে হয় হাসানকে। জশ হ্যাজেলউডের বলে এলবিডাব্লিউ এর ফাঁদে পড়েন তিনি।

ব্যক্তিগত ১৪ রান করা হাসান ফিরে গেলে ক্রিজে আসেন তাইজুল। তিনিও বেশি সময় টিকতে পারেননি। সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ১৭ রান করেই। তবে একপাশ আগলে নিজের অর্ধশতক পুরো করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর ব্যক্তিগত ৬৫ রানের সংগ্রহে তিনিও আউট হন। পরে টেইলএন্ডারদের ছোট ছোট সংগ্রহে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪২৬ রান। এতে ২২৮ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন জশ হ্যাজেলউড। দুইটি স্টার্ক ও একটি করে উইকেট শিকার করেন প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন।

এর আগে, ডারউইনে প্রথম দিনে পেসার হাসান মাহমুদের রেকর্ড গড়া ৬ উইকেটের সুবাদে বাংলাদেশ স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে।

এরপর দেখেশুনে করা ব্যাটিংয়ে অজি পেসারদের সামলে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রানের সংগ্রহে দিনের খেলা শেষ করে তামিম-মুমিনুলরা। প্রথম দিনে শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৩৬ রানে মিচেল স্টার্কের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সাদমান।

দ্বিতীয় দিনের খেলায় ব্যাটিং ইনিংসে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান তানজিদ হাসান তামিম। এছাড়া টেস্ট ক্যারিয়ারে ৭ম অর্ধশতক তুলে নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। স্টার্ক-কামিন্সদের সামলে লিড বেশ খানিকটা এগিয়ে নেন এই দুই ব্যাটারই।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে জশ হ্যাজেলউডের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বাউন্সি বল ছুঁইয়ে দিয়ে ভুল করেন মুমিনুল হক, হন কট-বিহাইন্ড। উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করতে ভুল করেননি, এতে ৪৯ রানে ফিরে যেতে হয় মুমিনুলকে। আর সেঞ্চুরির পর মাত্র ১ রান যোগ করে নাথান লায়নের বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিমও।

এরপর ক্রিজে আসেন দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম, শান্তর সঙ্গে রানের চাকা এগিয়ে নিয়ে গড়েন ৬৬ রানের জুটি। শতকের আশা জাগিয়েও অধিনায়ক শান্ত ব্যক্তিগত ৮৪ রানে সাজঘরে ফিরে গেলে এ জুটি ভাঙে। শান্তর উইকেটটি তুলে নেন হ্যাজেলউড।

শান্ত ফিরে যাওয়ার পর সময় নেননি উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন কুমার দাসও। স্টার্কের বলে স্টিভেন স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান শূন্য রানেই। এরপর ব্যক্তিগত ৩৬ রান করে সেই স্মিথের হাতেই ক্যাচ তুলে দেন মুশফিকও। এ ক্যাচও তালুবন্দি করতে ভুল করেননি স্মিথ।

প্রথম দিন বোলারদের দাপটের পর ব্যাটারদের দৃঢ়তায় চালকের আসনে থেকেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। দিন শেষে অজিদের বিপক্ষে টাইগাররা এগিয়ে থাকে ১৫৩ রানে। সে পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিলো ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান।

এসএইচ