নবীন বনাম প্রবীণ: প্রোটিয়া তরুণদের কাছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং ধস

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ
ক্রিকেট
এখন মাঠে
0

দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে চার দিনের টেস্ট ম্যাচে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ ‘এ’ দল। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ৮ ক্রিকেটার নিয়ে সাজানো বাংলাদেশ 'এ' দল দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে ম্যাচ হেরেছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। প্রথম ইনিংসে ১২২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে অল-আউট হয়েছে মাত্র ১১২ রানে।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর অভিজ্ঞতা আছে—এমন এক-দুইজন নন, একাদশে ঠিক ৮ জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার! কাগজে-কলমে এই দলকে নাম দেয়া হয়েছিলো বাংলাদেশ এ দল। কিন্তু মাঠে যেটা দেখা গেল, তা কোনো ক্রিকেট দলের লড়াই ছিল না; ছিল চরম দায়িত্ব-জ্ঞানহীনতা আর অপেশাদারিত্বের এক করুণ প্রদর্শনী। দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার-এটাকে আর যাই হোক ক্রিকেট ম্যাচ বলা চলে না।

নবীনদের কাঁধে দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই এই ম্যাচে। কারণ, একাদশের ৮ জন সদস্যের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঝুলিতে রয়েছে ২২৮ ম্যাচের অভিজ্ঞতা।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ২৩টি টেস্ট খেলা দলের অন্যতম অভিজ্ঞ মুখ মামুদুল হাসান জয় দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন দুই ইনিংসেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড় গড়া নাইম শেখ প্রোটিয়া তরুণদের বোলিংয়ের সামনে যেন পাত্তাই পাননি, দুই ইনিংসে করেছেন ৩৮ রান।

জাতীয় দলের হয়ে ১৩ টেস্ট খেলা জাকির হাসানের ব্যাটে ছিল না টেকনিক বা মনোযোগের ছাপ, দুই ইনিংসে করেছেন মাত্র ১৯ রান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১০৪ ম্যাচ খেলা আফিফ, মিডল অর্ডারে যার হাল ধরার কথা ছিল, সেই আফিফ হোসেন ধ্রুব করেছেন দুই ইনিংসে মাত্র ১৬ রান।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো শাহাদাৎ কিংবা হাসান মুরাদ উইকেটে থিতু হতে পারেননি কেউই। নাইম হাসান কিংবা উইকেট কিপার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনদের ভবিষ্যতের কান্ডারি ভাবা হলেও, এই টেস্ট যা করেছেন তাতে হতাশ ক্রিকেট ভক্তরা।

নাইম হাসানের বল হাতে আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও রানের বন্যায় ভাসিয়েছেন নিজেকে। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর সামান্যতম চাপ তৈরি করতে পারেনি তরুণ ইকবাল হোসেন কিংবা আল ফাহাদরা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাত্র ৩৬ ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাজানো প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশের এমন পরাজয় এক অপার লজ্জার কালি মাখিয়ে গেল এই টেস্ট ম্যাচ।

ইএ