১৯৯৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেই ঐতিহাসিক জয়ের মুহূর্তটা দেশের মানুষের কাছে এসেছিল বেতারের মাধ্যমে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের মোড় বদলে দেয়া সেই সময়ের সাক্ষী হয়েছিল সবাই বাংলা ভাষাতেই।
এর আগে-পরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অনেক মুহূর্তই মানুষের কাছে এসেছিল বাংলা ধারাভাষ্যকারদের সুবাদে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই বাংলা ধারাভাষ্যকারদের মূল্যায়ন কমেছে।
বাংলা ধারাভাষ্যে প্রায় ৪ দশক পার করেছেন আলফাজ উদ্দিন আহমেদ। দীর্ঘ যাত্রায় পেয়েছেন নানামুখী অভিজ্ঞতা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিক্ততার পাল্লাটাই ভারী।
আরও পড়ুন:
ধারাভাষ্যকার আলফাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সম্প্রতি যে ভারতের সঙ্গে খেলা হয়েছে আপনারা সবাই জানেন। এটা কি জানেন, বাংলা ধারাভাষ্য কোন জায়গা থেকে হয়েছে? মাঠের উত্তর পাশের গ্যালারিতে বসে মানুষদের মধ্য থেকে ধারাভাষ্য করেছি।’
কেবল তাই নয়, বাংলা ধারাভাষ্যকাররা শিকার হচ্ছেন নানামুখী বৈষম্যেরও। পারিশ্রমিকের দিক থেকেও যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বাংলা তারা।
আলফাজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘একটা ওডিআই ম্যাচে ধারাভাষ্য করলে প্রায় ৫০০ ডলার দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেতারে সরকারি কাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ পেমেন্ট আমি পাই ১ হাজার ৫০০ টাকা। এরপর “বি” গ্রুপে যারা আছেন, তারা পান ১ হাজার ২০০ আর “সি” গ্রুপে যারা তারা পান এক হাজার টাকা।’
প্রবীণ এ ধারাভাষ্যকারের মতে, বাংলা ধারাভাষ্যকে আবার ফিরিয়ে আনতে দরকার যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার। তিনি বলেন, ‘বাংলা ধারাবর্ণনাকে উচ্চস্থানে নেয়ার জন্য একটা পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। আর একটা চাহিদা তৈরি করতে হবে। বাংলা ধারাভাষ্য কেন উন্নয়ন হচ্ছে না, সে বিষয়টি খুঁজে বের করতে হবে।’
তবে আলফাজ উদ্দিন বিশ্বাস করেন, ফেডারেশন এবং সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলা ধারাভাষ্যের চলমান অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব।





