কম সুযোগ-সুবিধা নিয়েও এশিয়ান কাপে লড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা: এমিলি

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল
ফুটবল
এখন মাঠে
0

নারী এশিয়ান কাপে খেলা ১২টি দেশের ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া দল বাংলাদেশ। যে সুযোগ আর প্রস্তুতি নিয়ে বৈশ্বিক এ আসরে গেছে দেশের মেয়েরা, তাতে পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি সবাই। এমনটাই জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি। সুযোগ-সুবিধা ও সঠিক পরিকল্পনা পেলে আগামীতে বৈশ্বিক আসরগুলোতে সফলতা এনে দেবে ঋতুপর্ণা-আফঈদারা।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৪-০ গোলের হার দিয়ে নারী এশিয়ান কাপের মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরে কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরতে হচ্ছে ঋতুপর্ণা- আফঈদারের।

মেয়েদের এ সফরকে ব্যর্থতা নয় বরং সফলতা হিসেবেই দেখতে চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি। হারানোর থেকে প্রাপ্তির পাল্লাই ভারি লেগেছে তার কাছে।

বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘তারা খুব খুব ভালো ফুটবল খেলেছে। তাদের মাঠের পারফর্ম ছিলো দেখার মতো। আপনি যদি প্রথম ম্যাচ দেখেন, চায়না তারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। সে ম্যাচে আমরা প্রথম ৪০ মিনিট কোনো গোল খাইনি। আবার যদি দ্বিতীয় ম্যাচ যদি দেখেন, ৪৫ মিনিট কোনো গোল খাইনি। আমরা যদি আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে যেতে পারতাম, তাহলে ভালো কিছু ম্যাচ দেখতে পেতাম।’

আরও পড়ুন:

তবে মেয়েদের নিয়ে ফেডারেশনের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাব অবাক করেছে সাবেক এই ফুটবলারকে। এশিয়ান কাপের মর্যাদা ঠিকঠাক আন্দাজ করতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা। গুরুত্ব দিলে আরও ইতিবাচক ফল নিয়ে দেশে ফিরতে পারতেন মেয়েরা, মনে করেন এমিলি।

জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘প্রস্তুতির জায়গাটায় আমরা টিকঠাক মতো প্রস্তুতি নিতে পারিনি। যার কারণেই আমাদের পার্থক্যটা ছিলো অনেক বেশি। আপনি ফিজিক্যালি বলেন, মেন্টালি বলেন সব জায়গা থেকে আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ অনেক পিছিয়ে গিয়েছি। একজন আবার বলেছে আমরা পরপর দুইটা সাফ জিতেছি গুলিস্তানে ক্যাম্প করে। গুলিস্তানে ক্যাম্প করে সাফ ফুটবল খেলা আর এশিয়ান কাপ খেলা তো এক বিষয় না। মেয়েরা যে এশিয়ান কাপে নিয়ে গিয়েছে তার হাইফটাই আমরা বুঝতে পারি নাই। এটার মর্যাদা কতটুকু আর লেভেলটা কত।’

এদিকে, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর হেড কোচ পিটার বাটলারের মুখে ছিলো অভিমানের সুর। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে দায়িত্ব ছাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। পিটার যদি এ মুহূর্তে মেয়েদের দায়িত্ব ছেড়েই দেয় তা হবে নারী ফুটবলের জন্য বড় ক্ষতি, মনে করেন এমিলি।

আরও পড়ুন:

এমিলি বলেন, ‘পিটার বাটলার যেটা চেয়েছেন তা দলের ভালোর জন্য চেয়েছেন। সুতরাং পিটার যদি চলে যায় তাহলে বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য বড় ধাক্কা হবে। আমি ফেডারেশনকে বলবো তাকে দুই থেকে তিন বছর সময় দেন। তাহলে দেখবেন, এ মেয়ে দলকে সে একটা সময় অনেক ওপরে নিয়ে যাবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারী ফুটবলারদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত, সঠিক পরিকল্পনা ও তৃণমূল ফুটবলে জোর দিয়ে পাইপলাইন তৈরি করতে পারলে অচিরেই বিশ্বমঞ্চে সফলতা এনে দেবেন ফুটবলাররা।

জেআর