ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে তুলনামূলক খারাপ খেলেও জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে চিত্রটা একেবারেই উল্টো, ভালো খেলেও হারতে হয়েছে লাল-সবুজদের।
সাবেক ফুটবলারদের মতে, এ হারের পেছনে বড় কারণ মানসম্মত স্ট্রাইকার সংকট ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের অভাব।
সাবেক ফুটবলার ও কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, ‘আপনি প্রথম থেকেই নাম্বার নাইর সমস্যায় ভুগছিলেন। কখনো কখনো রাকিবকে নাম্বার নাইনে ব্যবহার করা হয়েছে। শেষ ম্যাচে রাকিব আর তপু বহিষ্কার হওয়ায় খেলতে পারেনি।’
আরও পড়ুন:
ম্যাচে সিঙ্গাপুর মিড-ব্লক তৈরি করে পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে। ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে দুই দল কাছাকাছি থাকলেও পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ইন্ডিভিজুয়াল ব্রিলিয়ান্স।
বাংলাদেশের সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘আমাদের ৫ পয়েন্ট, ইন্ডিয়ার ও ৫ পয়েন্ট আর আমাদের ওপরে যে দুই দল আছে তাদের পয়েন্ট হলো ৮ আর ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছে। বলা যায় আমরা যদি তাদের কাছাকাছি থেকে এই বাছাই পর্ব শেষ করতে পারতাম তাহলে ভালো হতো।’
হামজা, শমিতদের মতো গেম রিডিং ও ম্যাচ ইন্টেলিজেন্স সম্পন্ন খেলোয়াড়ের অভাব চোখে পড়ার মতো। মাঠে একেকজন খেলোয়াড় একেকভাবে ম্যাচ পড়ায় তৈরি হয়েছে সমন্বয়হীনতা।
জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, ‘যতদিন না আপনি খেলোয়াড় ডেভলপমেন্ট পাথওয়ে টা ঠিক না করবেন এবং ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরি করবেন না ততদিন ফুটবলটা ভালো হবে না।’
আরও পড়ুন:
শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচিংয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেকরা। তিন বছরেও নির্দিষ্ট কোনো প্লেয়িং স্টাইল বা প্যাটার্ন দাঁড় করাতে না পারাকে দেখছেন বড় ব্যর্থতা হিসেবে।
জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘অনেক খেলোয়াড়কে নিয়ে আপনি নিয়মিত এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। একেক ম্যাচে একেক জনকে দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। এতে ফলাফল ভালো হয় না।’
দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা, কৌশল ও মনস্তাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতা সব মিলিয়ে পিছিয়ে পড়ছে দেশের ফুটবল।
এমিলি বলেন, ‘আমাদের সব সময় জয়ের মানসিকতা থাকা দরকার। আমাদের যদি জয়ের মানসিকতা তৈরি করতে পারি তাহলে হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলো জিততে পারবেন।’
এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হার দিয়ে মিশন শেষ করলেও, প্রক্রিয়াটা ঠিক করতে পারলে ভবিষ্যতে ভালো খেলার পাশাপাশি ফলও আসবে, এমনটাই বিশ্বাস ফুটবল বোদ্ধাদের।





