খেলোয়াড়দের স্বার্থে সার্ক কোটা বাতিলের দাবি ফুটবলারদের, স্মারকলিপি জমা

বাফুফে ভবনের সামনে ফুটবলারদের ভিড়
ফুটবল
এখন মাঠে
0

খেলোয়াড়দের স্বার্থে সার্ক কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দেশের ফুটবলাররা। সার্ক কোটা বাতিলের দাবিতে গতকাল (বুধবার, ১৫ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন আবাহনী-মোহামেডানসহ স্থানীয় ক্লাবের ফুটবলাররা। ফুটবলরাররা মনে করেন, সার্কভুক্ত অঞ্চলে দেশের ফুটবলাররা সুযোগ না পেলেও বাইরের ফুটবলারদের সুযোগ দেয়ার যে নীতি, তা ফেডারেশনের পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে এবার প্রথমবারের মতো সার্ক অঞ্চলের ফুটবলাররা স্থানীয় হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তাতে অবশ্য দেশের খেলোয়াড়দের ভাগ্য পুড়েছে। কারণ বাফুফের করা নিয়ম অনুযায়ী বিএফএলের একটি দলে তিনজন বিদেশি কোটায় আর পাঁচজনই সার্কভুক্ত অঞ্চলের হবে। সেক্ষেত্রে দেশীয়দের মধ্যে প্রতি ম্যাচে মাত্র তিন জন খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

যে কারণে এই নিয়ম পরিবর্তনে বাফুফে ভবনে ধর্না দেয় মোহামেডান- আবাহনীসহ অন্যান্য ক্লাব ফুটবলের ৩০ থেকে ৫০ জনের মতো খেলোয়াড়রা। সার্ক কোটা বাতিলের দাবিতে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন ফুটবলাররা। সেই সঙ্গে খেলোয়াড় এবং জাতীয় দলের উন্নয়নের স্বার্থে সমস্যার দ্রুত সমাধান চান তারা।

রহমত মিয়া বলেন, ‘আমরা অন্য দেশের খেলোয়াড়দের এনে তাদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করছি। স্বাভাবিকভাবে সামনে সাফ আছে। ওদেরকে কেন আমরা আমাদের অভ্যন্তরীন বিষয়গুলো জানাবো? তারা যদি বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে আসে, সেটা আলাদা বিষয়। তবে লোকাল খেলোয়াড় হিসেবে যখন সুযোগ দিচ্ছি, তখন আমার দেশের খেলোয়াড়দের মান কমে যাচ্ছে, সুযোগও কম পাচ্ছে, খেলার সুযোগও কমে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:

শাকিল আহাদ তপু বলেন, ‘নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান—তারা কেউই কিন্তু সেভাবে মেইনটেইন করতে পারে না। আর ওদের দেশের লিগটাও এতটা উন্নত নয়। এজন্যই কিন্তু ওরা আমাদের দেশে আসে। এখন এরকম সিদ্ধান্ত যদি ফেডারেশন নেয়, বিদেশি কোটা হিসেবে; তাহলেও ভালো। লোকাল যেন না দেয়। এটা করলে আমাদের জন্য সমস্যা হবে। কারণ দিন শেষে আমরা খেলতে পারবো না।’

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও অন্যান্য দেশেও এমন নিয়ম চালু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় দলে খেলা মোহামেডানের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া জানান দেশের ফুটবলাররা সার্কভুক্ত দেশে সেভাবে খেলোর সুযোগ না পেলেও বাংলাদেশে ভারত, ভুটান, নেপালের ফুটবলারদের এভাবে স্বাগত জানানোর পেছনে কারণ কী? সার্ক খেলোয়াড় নীতি পুনর্মূল্যায়নের দাবি খেলোয়াড়দের।

রহমত মিয়া বলেন, ‘বিট করে যেদি খেলে তাহলে বলতে হবে আমাদের লোকাল খেলোয়াড়দের দুর্বলতা আছে। তবে আমার কথা হলো, বিট করে খেলতেছে, তাদের আনার উদ্দেশ্যটা কী? ফেডারেশন থেকে কী উদ্যোগ নেয় সেটা দেখার বিষয় এবং খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির মাধ্যমেই আসলে প্রস্তাবনাটা উত্থাপন হয়েছে, তো সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত তারা কী করে, সেটা দেখার বিষয়।’

এ নিয়ে লিগ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাড়া মেলেনি কারও দিক থেকেই। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বরাবর দেয়া সেই চিঠিতে সার্ক কোটা বাতিলের পাশাপাশি দেশিয় ফুটবলারদের জন্য অধিক খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় খেলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা, লিগে দল সংখ্যা বাড়ানোসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন ফুটবলাররা।

এসএইচ