ম্যাচে তখন মাত্র ১ মিনিট। গ্যালারির দর্শক ঠিক ভাবে আসনে বসার আগেই ডি-বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ডান পায়ের বাঁকানো শট। পানামার গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল যখন টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়ালো, পুরো মারাকানা তখন উল্লাসে ফেটে পড়েছে। শুরুতেই ব্রাজিলের রাজকীয় হুঙ্কার।
কিন্তু নাটক তো তখনও বাকি ছিলো। ১৪ মিনিটে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয় এক চরম দুর্ভাগ্য। আমির মুরিলোর ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে বসেন ব্রাজিলের ম্যাথিউস কুনিয়া। আত্মঘাতী গোলের সেই ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আরও পড়ুন
প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগমুহূর্ত। ঠিক তখনই আবারো ত্রাতা হয়ে এলেন ভিনিসিয়াস। তার নিখুঁত ক্রস বাতাসে ভাসলো, আর পানামার ডিফেন্সকে চূর্ণ করে তারকা মিড ফিল্ডার ক্যাসেমিরো বুলেট গতিতে হেডে বল জড়ালেন জালে। ২-১ প্রথমার্ধের এ নাটকীয় প্রত্যাবর্তনেই যেন ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলেছিলো ব্রাজিল।
প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপের ঠিক আগে এক ম্যাচে ৬ গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লো সেলেসাওরা। নেইমারকে ছাড়াই এ বিধ্বংসী রূপ প্রতিপক্ষদের জন্য এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামলো এক সম্পূর্ণ নতুন ব্রাজিল। কোচ আনচেলত্তি একসঙ্গে ১০ জন খেলোয়াড় বদলে ফেললেন। আর তাতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লো পানামার রক্ষণভাগ।
পানামাকে এভাবে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে ব্রাজিল বুঝিয়ে দিলো—তারা হেক্সার জন্য কতটা ক্ষুধার্ত। আগামী শনিবার (৬ জুন) মিশরের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ, আর ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ব্রাজিরের বিশ্বকাপ মিশন। মারাকানার এ তাণ্ডব কি তবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফিটা ব্রাজিলে আনার পূর্বাভাস?





