এক সময় বিশ্বকাপ মানেই ছিল স্বপ্ন ছুঁতে হাজারো কষ্টের যাত্রা। কেউ লিফট নিয়ে, কেউ বাস-ট্রেনে, আবার কেউ দিনের পর দিন সড়কপথে পাড়ি জমাতেন প্রিয় দলের খেলা দেখতে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই স্বপ্নের দাম যেন আকাশ ছুঁয়েছে। টিকিট আর ভ্রমণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ সমর্থকদের জন্য বিশ্বকাপ এখন হয়ে উঠছে নাভিশ্বাস।
১৯৭৮ সালে মাত্র কয়েক পাউন্ড পকেটে নিয়ে দুই স্কটিশ সমর্থক জাহাজে চড়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনায়। যাত্রাপথে জাহাজে রং করার কাজ করেই জোগাড় করেছিলেন ভাড়ার টাকা। আবার ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে হাজারো সমর্থক ক্যাম্পার ভ্যানে রাত কাটিয়ে পূরণ করেছিলেন বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন।কিন্তু এবার গল্পটা একেবারেই অন্যরকম।
এবার গ্রুপ পর্বের টিকিটের সর্বোচ্চ সরকারি দাম ছিল ৫৭৫ ডলার। আর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনর্বিক্রির বাজারে অনেক টিকিটের দাম ছাড়িয়ে গেছে এক হাজার ডলার। কিছু ম্যাচে সর্বনিম্ন টিকিটও বিক্রি হচ্ছে গড়ে ১ হাজার ৬০০ ডলারে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিমানভাড়া, হোটেল আর যাতায়াতের বাড়তি খরচ।
ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ থেকে আসা রেনাতো পেরেজ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে বিশ্বকাপ দেখতে খরচ করেছেন প্রায় ২২ হাজার ডলার। তবুও তার কণ্ঠে আক্ষেপ নয়, বরং তৃপ্তি প্রতিটি পয়সাই সার্থক। সুযোগ পেলে আবারও আসতে চান তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এর বাণিজ্যিক মূল্য। আর সেই সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরটি ধীরে ধীরে সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ কি শুধুই উচ্চ আয়ের দর্শকদের উৎসবে পরিণত হবে?





