ফুটবল যাদের কাছে শুধু খেলা নয়, বেঁচে থাকার স্পন্দন-সেই ব্রাজিলের বুকে আরও একটি বিশ্বকাপের ক্ষত এখন দগদগে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের হারে স্তব্ধ হেক্সা মিশন। কিন্তু সেলেসাওরা তো হার মানতে শেখেনি! খারাপ সময় যতই গ্রাস করুক, ফুটবল নিয়ে তাদের স্বপ্ন দেখা কখনোই থামে না। ঠিক যেমন নিউইয়র্কের রকেফেলার সেন্টারে দাঁড়িয়ে এক নতুন শুরুর স্বপ্ন দেখালেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি অধিনায়ক কাফু।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এই কঠিন লগ্নে, যখন ব্যর্থতার কাটাছেঁড়া চলছে, তখন কাফু ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন কোচ কার্লো আনচেলত্তির পক্ষে। জানালেন এ অভিজ্ঞ কোচকে এখন সময় দেয়ার পালা।
বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কাফু বলেন, ‘সত্যি বলতে, তিনি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন তাকে কেবল আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে। একের পর এক কোচ বদল আর প্রশাসনিক ঝামেলার মাঝে চলন্ত ট্রেনে চড়েছিলেন তিনি। এখন তিনি শান্ত একটা জাহাজ পাবেন এবং এটিকে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার সব সুযোগ তার সামনে থাকবে।’
২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা খরা পৌঁছাবে ২৮ বছরে। ১৯৯৪ সালে ২৪ বছরের খরা কাটানো কাফু জানেন, এ চাপ কতটা পাহাড়সম। তবে সমাধান হিসেবে তিনি দেখছেন ফুটবলের মূলে ফিরে যাওয়াকে। কাফুর আক্ষেপ, ব্রাজিলের সেই ঐতিহ্যবাহী স্ট্রিট ফুটবল বা রাজপথের ফুটবল আজ হারিয়ে গেছে। এখন অ্যাকাডেমিতে ফুটবলার নয়, কেবল ‘প্রতিযোগী’ তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কাফু বলেন, ‘বাচ্চাদের বাচ্চা হতেই দিন। ৮ বছরের একটা শিশুর কাঁধে জেতা চাপিয়ে দেবেন না। এ বয়সে তার মাঠে হেসে-খেলে আনন্দ পাওয়ার কথা। বাবা-মা চাইল বলেই তাকে খেলতে হবে এমন নয়, ফুটবলটা খেলতে হবে আনন্দের জন্য। তবেই আসল অ্যাথলেট তৈরি হবে।’
৫৯ জন বিশেষজ্ঞের ৭ হাজার ঘণ্টারও বেশি পরিশ্রমের এ লেগো প্রদর্শনী যেন ব্রাজিলের ফুটবলের মতোই-ধৈর্য আর নিখুঁত কারুকার্যের প্রতীক। ব্যর্থতার মেঘ কেটে যাবে, নতুন প্রজন্ম আর আনচেলত্তির হাত ধরে ব্রাজিল আবারও বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করবে-রকেফেলার সেন্টারের এ বিশাল ট্রফির সামনে দাঁড়িয়ে সেই স্বপ্নই দেখালেন কাফু।





