সবুজ গালিচায় ফুটবলের যে রোমাঞ্চ, তার পেছনে লুকিয়ে থাকে এক দল বদলের গল্প। কিন্তু সেই গল্পটা যদি হয় একটু বেশিই দ্রুতগতির? ২৩ বছর বয়স পার হওয়ার আগেই যদি ক্যারিয়ারে যুক্ত হয় একের পর এক ক্লাবের নাম, তবে তাদেরকে ফুটবল দুনিয়া চেনে ‘ইয়ং জার্নিম্যান’ হিসেবে।
সর্বশেষ এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন অ্যাস্টন ভিলার সাবেক ফরোয়ার্ড জন ডুরান। মাত্র ২২ বছর বয়সে পাড়ি জমিয়েছেন ক্যারিয়ারের সপ্তম ক্লাবে। ডুরানের এই ঘটনা নতুন করে আলো ফেলছে ফুটবলের সেইসব উদীয়মান তারকাদের ওপর, যারা তরুণ বয়সেই ভ্রমণ করেছেন ক্লাবের পর ক্লাব।
তবে তালিকার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রেডি আদু। ২০০৪ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে, ২২ বছর বয়স হওয়ার আগেই খেলে ফেলেন ৮টি আলাদা ক্লাবে। একই অভিজ্ঞতা চেলসির সাবেক ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক মাতেই দেলাচের। ব্লুদের খাতায় আট বছর নাম থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি একটি ম্যাচেও। ধারে খেলতে খেলতেই ২২ বছর বয়সের আগেই আটটি ক্লাবের জার্সি গায়ে চড়ান তিনি।
আরও পড়ুন:
এমন উদাহরণে চেলসি যেন এক অনন্য কারখানা! দলটির সাবেক মিডফিল্ডার নাথানিয়েল চালোবাহ স্থায়ী চুক্তিতে ওয়াটফোর্ডে যাওয়ার আগেই ৬টি লোনের অভিজ্ঞতা নিয়ে খেলে ফেলেন ৭টি ক্লাবে। পরবর্তীতে ইংলিশ জাতীয় দলেও জায়গা পান তিনি। ১৭ বছর বয়সে চেলসির মূল দলে জাদুকরী সূচনা করা জশ ম্যাকাক্র্যানও হাঁটেন একই পথে। ২২ বছর বয়সে ব্রেন্টফোর্ডে স্থায়ী হওয়ার আগে খেলে ফেলেন ৭টি ক্লাবে।
রায়ান বার্ট্রান্ডও চেলসিতে থাকাকালীন মোট ৯ বার ধারে খেলে ২২ বছর বয়সেই নিয়ে ফেলেন ৬টি ক্লাবের অভিজ্ঞতা। আর বার্সেলোনা, হামবুর্গ আর স্পোর্টিং গিয়ন হয়ে ২২ বছর বয়সে এসি মিলানে যোগ দিয়ে চার দেশের ৬টি ক্লাবে খেলার স্বাদ নেন ক্রোয়েশিয়ার অ্যালেন হালিলোভিচ।
অন্যদিকে, রাভেল মরিসন কিংবা ফরাসি স্ট্রাইকার নিকোলাস আনেলকা-সবাই ছিলেন এই ক্ষিপ্র দলবদলের যাত্রী। আনেলকা তো তার পুরো ক্যারিয়ারে শেষ পর্যন্ত ৭টি ভিন্ন দেশের ১২টি ক্লাবে খেলেছেন।
কারো ক্ষেত্রে ক্লাবের চাহিদা, কারো ক্ষেত্রে চোটের আঘাত, আবার কারো ক্ষেত্রে মানিয়ে নেয়ার ব্যর্থতা—কারণ যাই হোক না কেন, ফুটবল ইতিহাসের এই ‘ইয়াং জার্নিম্যানরা’ একটি সত্যই মনে করিয়ে দেন-ফুটবলে প্রতিভার অভাব হয়তো হয় না, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত আর স্থায়িত্ব না থাকলে স্বপ্নের যাত্রাটা বারবার দিক হারায়।





