সৌদি সংবাদমাধ্যম ওকাজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রবার্তো কার্লোস বলেন, ইসলাম ধর্মের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, কিন্তু তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। তার ‘শাহাদাহ’ পাঠ করে মুসলিম হওয়ার খবরও সত্য নয়।
কার্লোস জানান, তার স্ত্রী মুসলিম এবং তিনি যখন নামাজ আদায় করেন, সেটি দেখতে তার ভালো লাগে। তবে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গায় তিনি ক্যাথলিক পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করেন।
বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন কার্লোস। তিনি বলেন, তার পরিবার ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী, অন্যদিকে তার স্ত্রীর পরিবার মুসলিম। দুই পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানাতেই তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় রীতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
যেভাবে ছড়ায় ধর্মান্তরের গুঞ্জন
সম্প্রতি তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) সংসদ সদস্য আলী শাহিন দাবি করেন, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি শেখ জিহাদ হামাদেহ তাকে জানিয়েছেন, রবার্তো কার্লোস তার কাছে গিয়ে ‘শাহাদাহ’ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
আরও পড়ুন
আলী শাহিনের ওই বক্তব্যের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কার্লোসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন—এমন দাবিও ছড়ানো হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে কার্লোসের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবার সৌদি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সরাসরি সাক্ষাৎকারে রবার্তো কার্লোস নিজেই ধর্মান্তরের খবর অস্বীকার করায় সেই গুঞ্জনের অবসান ঘটলো।
স্ত্রী সোহাইলার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা
সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন রবার্তো কার্লোস। তিনি জানান, ফুটবল-সংক্রান্ত একটি ব্যবসার সূত্র ধরে সোহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সোহাইলাকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস বলেন, তারা প্রায় দুই বছর ধরে একসঙ্গে রয়েছেন।
সোহাইলা এল তাহিরি ফিফা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফুটবল এজেন্ট হিসেবে খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন ফুটবল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।
২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন রবার্তো কার্লোস। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক হিসেবে বিবেচিত এই তারকা দীর্ঘ সময় খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদে। পরে তুরস্কের ফেনারবাহচে স্পোর্টস ক্লাবের হয়েও মাঠ মাতিয়েছেন তিনি।





