উন্মুক্ত হচ্ছে লালবাগের ‘দেলোয়াড় হোসেন’ মাঠ

খেলার মাঠ ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
অন্য সব খেলা
এখন মাঠে
0

শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এলাকা লালবাগের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত ‘দেলোয়াড় হোসেন খেলার মাঠ’। তবে ইতিহাস আর সংস্কৃতির এই এলাকায় শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার জায়গা যেন দিন দিন হয়ে উঠছে সংকুচিত। জরাজীর্ণ মাঠ আর দখলের কারণে ঠিকমতো খেলতে পারছে না নতুন প্রজন্ম। এমন বাস্তবতায় মাঠগুলোকে ফিরিয়ে দিতে নেয়া হয়েছে বড় উদ্যোগ।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে খেলার মাঠের সংকট দীর্ঘদিনের। লালবাগের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডও এর ব্যতিক্রম নয়। অনেক মাঠই এখন অযত্নে পড়ে আছে, আবার কিছু জায়গা দখল হয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতি বদলাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি। যেখানে রয়েছেন ৩ জন মন্ত্রী ও ১২ জন সচিব।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে বড় দুই বা তিন বিঘা জায়গা পেয়ে আমরা মাঠের ব্যবস্থা করতে চাই। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি জায়গায় ছোট ছোট ফুটসালের মাঠ তৈরি করতে চাই। পড়াশোনার ফাঁকে খেলাধুলা উপভোগ করার একটি ব্যবস্থা করা হবে।’

আরও পড়ুন:

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি ২ থেকে ৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করা হবে পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য ছোট ছোট ফুটসাল মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কংকরযুক্ত ও অনুপযোগী জায়গাগুলোকে আধুনিক এস্ট্রো টার্ফে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। যাতে শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা করতে পারে। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে দখল হয়ে যাওয়া মাঠ উদ্ধার করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার ওপর।

তিনি বলেন, ‘এখানে খেলাধুলার কিছু ইন্সট্রুমেন্ট রয়েছে। যেগুলো ছোট বাচ্চারা ব্যবহার করে। ইন্সট্রুমেন্টগুলো পরিবর্তন করে আমরা যেন আগামী ৭ দিনের মধ্যেই যেন শেষ করতে পারি এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর-দক্ষিণের যে মাঠগুলো ভিজিট করা দরকার সেগুলো ভিজিট করে, মাঠগুলো দখলমুক্ত করা, সংস্কার করা সার্বিক বিষয় নিয়ে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে, শুধু লালবাগ নয় পুরো ঢাকার শিশু-কিশোরদের জন্য তৈরি হবে একটি নিরাপদ ও আধুনিক খেলার পরিবেশ। আগামী ১০ তারিখের পর যেকোনো সময় থেকে শুরু হতে পারে মাঠ দখলমুক্ত ও সংস্কারের কাজ। এছাড়া, যেসব মাঠ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল সেগুলোও খুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিশু-কিশোরা জানান, এ উদ্যোগে তারা খুবই আনন্দিত। যারা টাকা দিয়ে খেলাধুলা করতো তারা এখন ফ্রি খেলতে পারবে।

খেলার মাঠ শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, বরং একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ার ভিত্তি। এখন দেখার বিষয় এই উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়।

এফএস