অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় বিপাকে সাঁতার ফেডারেশন

সাঁতার ফেডারেশনের স্কোরবোর্ড
অন্য সব খেলা
এখন মাঠে
0

৫ কোটি টাকা খরচ করে বসানো হয়েছে স্কোরবোর্ড, অথচ ব্যবহার করা যায়নি একদিনও— এমন ঘটনাই ঘটেছে সাঁতার ফেডারেশনে। এজন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দুষছে আগের মেয়াদের কর্মকর্তাদের। এদিকে প্রায় চার কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সুইমিং পুলের গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ফলে বিপাকেই পড়েছে ফেডারেশন।

বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন আটকে আছে অভিযোগ আর আক্ষেপে। সরকার কিংবা ফেডারেশনের কমিটির বদল ঘটলেও ভাগ্য বদলায়নি সাঁতারুদের। প্রায় ৯ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম দেশের সাঁতারের গলার কাঁটা।

১৯৯৩ সালে স্থাপিত জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ স্কোরবোর্ড। ২০১৯ সালে স্থাপনের পর থেকে চালু হয়নি আজও। এনএসসি আর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পরও নেই কোনো সমাধান।

বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শাহীন বলেন, ‘২০১৯ সালে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ স্কোরবোর্ডটি স্থাপন করেছে তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছিলো। তারা ঠিক করে দেয়া কথা বলেছিলো কিন্তু তা হয়নি। আর আমরাও চেষ্টা করেছি, কিন্তু এটা আর ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এ স্কোরবোর্ড কোনোপ্রকার যাচাই না করেই বুঝে নিয়েছিলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কার ইশারায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো সেই সময় তা এখন পর্যন্ত অজানা। দেশের সাঁতারে বড় জটিলতা হয়ে আছে এ অকেজো স্কোরবোর্ড।

আরও পড়ুন

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তখন সব কিছু যাচাই বাছাই করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছিলো। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ঠিক মতো কাজ করতে পারেনি। ঠিক তেমনি এনএসসিও কাজটি বুঝে নিতে পারেনি, তাই এটাকে অদক্ষতাই বলতে হবে।’

বর্তমানে ফেডারেশন চায় নতুন এক স্কোরবোর্ড আনা হোক। তবে চাওয়ার সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব কতখানি, সেটাও এক বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি আশা করবো মন্ত্রণালয় থেকে একটি স্কোরবোর্ড প্রতিস্থাপন করে দেয়া হবে। আর নতুন স্কোরবোর্ডের জন্য টাকা কোথা থেকে আসবে তাও আমার জানা নেই।’

এদিকে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আছে প্রায় ৪ কোটি টাকার দেনা। ১৯৯১ সাল থেকে বিদ্যুৎ বিল জমতে জমতে সেটি ছাড়িয়েছে কোটির ঘর। বিল বকেয়া থাকায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে বন্ধ আছে পানি গরমের ব্যবস্থা। শীতকাল এলেই মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্সে নামে নীরবতা। বন্ধ থাকে অনুশীলন।

মাহাবুবুর রহমান শাহীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের গ্যাস বিল পরিষদ করা হয়নি। যারা বিগত সময় দায়িত্বে ছিলো তারা বিলটি দেয়নি আর বকেয়ার টাকাটি প্রায় ৪ কোটি টাকার কাছাকাছি।’

সমস্যা সমাধানে অর্থ মওকুফের আশায় সুইমিং ফেডারেশন তাকিয়ে আছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দিকে। আর দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ সংস্থা বলছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের অপেক্ষায় আছে তারা।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা মওকুফ করতে পারবে জ্বালানিও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় আর আমরাও চেষ্টা করছি কীভাবে সব কিছু সমাধান করা যায়।’

সব সংকট দূর করে সুইমিং কমপ্লেক্স দ্রুতই ফিরবে স্বাভাবিক গতিশীলতায়-এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ফেডারেশন ও এনএসসি কর্মকর্তারা।

জেআর