ইঞ্জিনের গর্জন, গতি আর রেসিংয়ের উত্তেজনা কিমি আন্তোনেল্লির শৈশব যেন কেটেছে গাড়ির ভেতরেই। মাত্র ১৫ দিন বয়স থেকেই বাবার গ্যারেজে যাতায়াত। তিন বছর বয়সে হাতে ওঠে রেসিং সিমুলেটরের স্টিয়ারিং। আর পাঁচ বছর বয়সে প্রথমবার কার্টিংয়ে বসেই বোঝান এ ছেলের মধ্যে অন্যরকম কিছু আছে।
তবে আসল মুহূর্ত আসে ১০ বছর বয়সে। বাবা মার্কো আন্তোনেল্লি তাকে ল্যাম্বরগিনির গাড়িতে বসান। বাবা সামলাচ্ছিলেন অ্যাক্সিলারেটর ও ব্রেক, আর কিমির হাতে ছিলো স্টিয়ারিং ও গিয়ার। গতি উঠেছিল ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার! গাড়ি যখন নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো অবস্থায়, কিমি তখনও সামলেছেন নিখুঁতভাবে। সেদিনই বাবা বুঝেছিলেন ছেলের প্রতিভা হয়তো সাধারণ নয়।
কিন্তু পথটা ছিলো না সহজ। কিমির পরিবার ছিলো সাধারণ। ফর্মুলা ওয়ানে পৌঁছানোর প্রতিটি ধাপের খরচ বহন করাও ছিল কঠিন। বাবা সিদ্ধান্ত নেন, অন্তত কার্টিং আর ফর্মুলা ফোর পর্যন্ত ছেলেকে এগিয়ে নেবেন। এরপর কিমির প্রতিভাই খুলে দেয় একের পর এক দরজা।
১১ বছর বয়সেই নজরে পড়ে মার্সিডিজের। এরপর ড্রাইভার অ্যাকাডেমিতে সুযোগ। ২০২২ সালে ইতালিয়ান ফর্মুলা ফোর চ্যাম্পিয়ন, ২০২৩ সালে ফর্মুলা রিজিওনাল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন। জুনিয়র পর্যায়ে সাফল্যের পর ২০২৫ সালে ফর্মুলা ওয়ানে অভিষেক।
তবে অভিষেক মৌসুমে ছিল কঠিন সময়। দুর্ঘটনা, ভুল সিদ্ধান্ত, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছিল। এমনকি মনজায় অনুশীলনে বড় দুর্ঘটনাও ঘটে। মার্সিডিজ তখনও বিশ্বাস হারায়নি।
আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দিচ্ছেন কিমি ২০২৬ সালে। ১১ রেসে ছয় পোল, ছয় জয়। চ্যাম্পিয়নশিপে ৫০ পয়েন্টের লিড। সতীর্থ জর্জ রাসেলের ওপরও ধারাবাহিক আধিপত্য।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্সে ইতিহাসের হাতছানি। শিরোপা জিতলেই ফর্মুলা ওয়ানের সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ কিমির সামনে।
গ্যারেজে বাবার কোলে শুরু হওয়া যে স্বপ্ন এখন সেটিই ছুটছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুটের দিকে। আর কিমির সবচেয়ে বড় শক্তি? শুধু গতি নয় চাপের মধ্যেও বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা।





