ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্মরণীয় যত ‘বাবা-ছেলে জুটি’

প্রতীকী ছবি
বিশ্বকাপ , ফুটবল
এখন মাঠে
0

বিশ্বকাপে ইতিহাসে আছেন বেশ কিছু বাবা-ছেলে জুটি যারা উভয়েই বিশ্বকাপে ভিন্ন ভিন্ন দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কেউ জন্মেছে এক দেশে, বড় হয়েছে আরেক দেশে; কেউবা বদলে যাওয়া মানচিত্রের কারণে খেলেছেন ভিন্ন জাতীয় দলে। আবার কেউ লিখেছেন ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য পারিবারিক অধ্যায়।

একজন বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন নিজের দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলার। বছর পেরিয়ে সেই স্বপ্ন বয়ে নিয়ে গেলেন ছেলেও, যদিও অন্য এক দেশের হয়ে।

ফুটবল বিশ্বকাপে এমন কিছু বাবা-ছেলের গল্প আছে, যারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন দুই ভিন্ন দেশের হয়ে। স্পেনের তারকা মার্তি ভেন্টলোরা শুরু করেছিলেন বার্সেলোনায়, পরে খেলেছেন স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপে। কিন্তু গৃহযুদ্ধের পর তিনি পাড়ি জমান মেক্সিকোতে। তার ছেলে হোসে ভেন্টলোরা হয়ে ওঠেন মেক্সিকোর জাতীয় দলের ডিফেন্ডার, খেলেন ১৯৭০ বিশ্বকাপে।

বাবা-ছেলে জুটি সোলেমানি সানে ও লেরয় সানে। বাবা ছিলেন সেনেগালের তারকা, আর ছেলে লেরয় সানে জার্মানির জার্সিতে খেলেছেন বিশ্বকাপ।

ইয়ান কোহজাক ছিলেন চেকোস্লোভাকিয়া ও স্লোভাকিয়ার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার এবং পরে স্লোভাকিয়া জাতীয় দলের সফল কোচ। তার ছেলে জুনিয়র কোহজাকও একজন পেশাদার ফুটবলার ছিলেন, যিনি স্লোভাকিয়া জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। বাবা–ছেলে দুজনই স্লোভাক ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

আরও পড়ুন:

আরেকটি বিখ্যাত জুটি মাজিনহো ও থিয়াগো আল কারেন্তা। ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা মাজিনহো ফুটবল ইতিহাসে একজন সফল মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে তিনি ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করেছিলেন। তার পথ ধরেই ফুটবলে আসেন ছেলে থিয়াগো আল কারেন্তা। যদিও বাবা খেলেছেন ব্রাজিলের হয়ে, থিয়াগো বেছে নেন স্পেন জাতীয় দলকে। অসাধারণ পাসিং, বল কন্ট্রোল ও সৃজনশীল খেলায় তিনি বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন হয়ে ওঠেন। বাবা–ছেলের এই গল্প প্রমাণ করে, ফুটবলের প্রতিভা কখনো সীমান্ত মানে না।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণেও হয়েছে এমন ঘটনা। যেমন ভ্লাদিমির ভাইস খেলেছেন চেকোস্লোভাকিয়ার হয়ে, আর তার ছেলে জুনিয়র ভ্লাডিমির ভাইস খেলেছেন স্বাধীন স্লোভাকিয়ার হয়ে।

এছাড়া জর্জ উইয়াহ এবং টিম উইয়ার ছিলেন বিখ্যাত জুটি। জর্জ উইয়া আফ্রিকার একমাত্র ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার, খেলেছেন লাইবেরিয়ার হয়ে। আর তার ছেলে টিম উইয়া খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপে।

বাবা-ছেলে দুই দেশ, দুই বিশ্বকাপ, ফুটবলের এক অনন্য ইতিহাস। দেশ আলাদা হতে পারে কিন্তু ফুটবলের রক্ত একই থাকে।

এসএইচ