মৃত্যুর মুখ থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে: হাইতিয়ান তারকা নাজনের অলৌকিক জীবনযুদ্ধ

ডকেন্স নাজন
বিশ্বকাপ , ফুটবল
এখন মাঠে
0

মৃত্যুর মুখ থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ফুটবল মাঠের লড়াই থেকে জীবনের বাঁচা মরার লড়াই। যুদ্ধের সাইরেন যখন বেজে ওঠে, তখন তারকা ফুটবলারও হয়ে যান আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো এক যুদ্ধকালীন অভিযাত্রী। গল্পটা হাইতির তারকা ফুটবলার ডকেন্স নাজনের। চলতি বছরের মার্চে ইরান-ইসরাইল সংঘাত শুরুর পর নাটকীয়ভাবে বেঁচে ফেরেন এই ফুটবলার।

গত ২রা মার্চ। তেহরান বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত একটি যাত্রীবাহী বিমান। ভেতরে সিটবেল্ট বেধে বসা হাইতি জাতীয় দলের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার- রেকর্ড গোলদাতা ডাকেন্স নাজন। লক্ষ্য ছিল প্যারিস হয়ে পরিবারের কাছে ফিরবেন। কিন্ত বিমান উড়ার ঠিক ১০ সেকেন্ড আগে হঠাৎ থমকে গেল সবকিছু। কেবিন চিফ ঘোষণা করলেন সবাই বিমান থেকে নেমে যান, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, আকাশসীমা অবরুদ্ধ । ডাকেন্স তখন জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করলেও স্বস্তি হচ্ছিল এটা ভেবে যে তার পরিবার এই বিপদের মধ্যে নেই- তারা ভালো আছে।

ইরানি ক্লাব এস্তেগলালের এই ফরোয়ার্ড এরপর যা করলেন, তা কোন হলিউড সিনেমাকেও হার মানায়। তেহরানের উপর আছড়ে পড়ছে বোমা , যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। তখন এক সতীর্থকে সাথে নিয়ে নাজন শুরু করলেন এক রুদ্ধশ্বাস ও অজানা যাত্রা। প্রায় ২০ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে, আকাশে বোমার আলো আর রাস্তায় ধ্বংসস্তূপ দেখতে দেখতে তিনি পৌঁছান আজারবাইজান সীমান্তে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফরাসি দূতাবাসের সহায়তায় অবশেষে নিশ্চিত হয় তার জীবন রক্ষা। সেখান থেকে দুইদিন পরে উড়াল দেন প্যারিসে।

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ৩২ বছরের বয়সী এই স্ট্রাইকারের চোখজুড়ে এখন অন্য এক স্বপ্ন। দেশের হয়ে ৮০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪৪ গোল করা এই মহাতারকার হাত ধরেই দীর্ঘ ৫২ বছরের খরা কটিয়ে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে তার দেশ হাইতি। দেশে সহিংসতা আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় সব ম্যাচ দেশের বাইরে খেলতে হলেও, ফুটবলই এখন তাদের দেশের মানুষের একমাত্র আশার আলো। আর সেই আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখছেন দলটির সবচেয়ে বড় এই পোস্টার বয়।

যুদ্ধের ভয়াবহতা পেছনে ফেলে হাইতির এই গোলমেশিন এখন তাকাচ্ছেন সামনের দিকে। যেখানে যুদ্ধের সাইরেন নয় বরং বাজবে বিশ্বকাপের বাঁশি। ব্রাজিল, মরক্কো আর স্কটল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বিশ্বকে তারা দেখিয়ে দিতে চান, শত প্রতিকূলতার মাঝেও কীভাবে বুক চিতিয়ে লড়তে হয়!

ইএ