বিশ্বকাপের সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ম্যাচ। অন্তত ম্যাচের আগে দুই দলের কোচের কথায় সেটাই ছিল স্পষ্ট। মায়ামি স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ঘিরে ছিল না কোনো উত্তেজনা। গুরুত্বহীন ম্যাচে দুই দলই একাদশে এনেছিল সাতটি করে পরিবর্তন। তবে রেফারি খেলা শুরুর বাঁশি বাজাতেই বদলে গেল দৃশ্যপট।
দর্শকরা ঠিকভাবে বসার আগেই ডেকলান রাইসের গোলে ইংল্যান্ডের গোল। ১২ মিনিটে বুকায়ো সাকা বল জালে জড়ালেও অফসাইডে সেটি বাতিল হয়। তবে এর ৬ মিনিট পরই লিড দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। গোল বাতিলের দুঃখে বেশিক্ষণ থাকতে হয়নি সাকাকে। বিরতির আগেই জোড়া গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রথমার্ধে ৪ গোল হজম করলো ফ্রান্স। সেই ধাক্কা সামলাতেই যেন বিরতির পর ঘুরে দাঁড়াতে নামে দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এমবাপ্পের গোলে কমল ব্যবধান। এই গোলের মাধ্যমে আসরে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসিকে ছাড়িয়ে আবারও শীর্ষে ওঠেন তিনি। ৫৪ মিনিটে তার পাস থেকেই ব্যবধান ৪-২ করেন বারকোলা।
আরও পড়ুন:
ম্যাচের ৬৬ মিনিটে নতুন ইতিহাস গড়েন এমবাপ্পে। ওলিসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করার সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যান বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ গোলদাতা। এখানেও তিনি পেছনে ফেলেন মেসিকে। টুর্নামেন্টে এটি ছিল এমবাপ্পের ২২তম গোল।
৮৪ মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা। স্টপেজ টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে ওসমান দেম্বেলের গোলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ফ্রান্স। তবে মিনিট দুয়েক পরে জুড বেলিংহ্যামের গোলে ৬-৪ ব্যবধানের জয়েই মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই দেখা গেল ১০ গোলের থ্রিলার। যেখানে একদিকে এমবাপ্পে গড়লেন নতুন ইতিহাস, অন্যদিকে সান্ত্বনার জয় ইংল্যান্ডের। বিগত ৬০ বছরে এটাই দলটির তৃতীয় সাফল্য। তবে শিরোপা না জেতার আক্ষেপ কি এতে পূরণ হয়?





