
শরতের বিদায়বেলায় কাশফুলে ধূসরতার ছোঁয়া
শরতের কাশফুলে পড়ছে ধূসর আবরণ। নীল আকাশে কমছে মেঘের আনাগোনা, ফিকে হচ্ছে শুভ্রতার মায়া। নগরীর ব্যস্ততার ফাঁকে নাকে লাগছে ছাতিমের ঘ্রাণ। নীরবে, নিভৃতে শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের পথে এগোচ্ছে নগরী। উদ্দেশ্য শীত অব্দি। এর মাঝেই কাশের দোল, মেঘের ছায়া আর ছাতিমের ঘ্রাণে ধরা দিচ্ছে বিদায়ী শরতের নান্দনিকতা। শীতল ভোরে হেঁটে, দিনের শুভ্রতা আর ছাতিমের গন্ধ মেখে, সেই গল্পই থাকছে আজকের প্রতিবেদনে।

শিশিরভেজা ঘাস আর কাশফুলে সেজেছে শরৎ
শিশিরভেজা ঘাস, নীল আকাশে শুভ্র মেঘের ছুটে চলা আর নদীর পাড়জুড়ে দোল খাওয়া কাশফুল, প্রকৃতিতে শরৎ ফুটে উঠেছে। হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়া সকালের নীরবতা, দুপুরে সূর্যের প্রখরতা আর বিকেলে স্নিগ্ধতা- এভাবেই কাটছে শরতের একেকটি দিন। এই ঋতুর অপরূপ সৌন্দর্যে থমকে যায় ব্যস্ত মানুষ। কাশবনে বেড়েছে প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনা।

শরতের আগমনী সুর; যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে প্রকৃতি আলিঙ্গনেই স্বস্তি
নীলাকাশ-সাদামেঘ আর কাশফুলের দোলায় প্রকৃতিতে স্নিগ্ধতা নিয়ে এসেছে শরৎ। আশ্বিনের গাঢ় সবুজ ধানক্ষেত, শাপলাসহ নানা ফুলে রঙিন হয় চারপাশ। আর শিউলি ফোটার সৌরভে আগমনী সুর বাজে দুর্গাপূজার উৎসবের। তবে প্রকৃতির এ অপরূপ শোভা উপভোগ করা হয়ে ওঠে না ইট-পাথরের নগরীর যান্ত্রিক জনজীবনে। অন্তত ছুটির দিনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে শিশুদের আলিঙ্গনের তাগিদ সাংস্কৃতিক কর্মীদের।

বালু উত্তোলনের ফলে চরাঞ্চল কমে হারিয়ে যেতে বসেছে কাশফুল
কিশোরগঞ্জের ব্রহ্মপুত্র নদের চর কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করছে। জেলাসহ আশপাশের অঞ্চল থেকেও ছুটে আসছেন শরতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তবে চরজুড়ে একসময় কাশফুলের ছড়াছড়ি থাকলেও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ড্রেজারে বালু উত্তোলনের ফলে বিলীন হচ্ছে চর কমে যাচ্ছে কাশফুল। স্থানীয়দের প্রত্যাশা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে এলাকাটিকে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা।