প্রকৃতি পরম যত্নে সাজিয়েছে শরতের সকাল। ঝুলিতে যা শিশির ছিলো তা রাতভর ঝরিয়ে ঘাসের ডগাকে মুকুট পরিয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাশূন্যে আর এক বিন্দুও শিশির নেই। স্বচ্ছ আকাশ থেকে সূর্যের তাপ মাটিতে পৌঁছাতে কোনো বাধা নেই। তাই সকালের শুরুতেই সূর্য যে তাপ ছড়ায়, তাতেই শিশির বিন্দু ঝরে যায়।
বিলের জলে শাপলাগুলোও খুব বেশি সময় ডানা মেলে থাকে না, তাপ থেকে বাঁচতে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। সারারাত ঝরে পড়া ফুলগুলোও গাছ তলায় নেতিয়ে পড়ে। রাতভর সাজানো শরতের সকাল খুব বেশি স্থায়ী হয় না। তাড়াহুড়ো করেই মিলিয়ে যায় স্নিগ্ধ, শান্ত সকালের অনুভূতি।
সকালের সব আয়োজন শেষ হলেই শুরু হয় শরতের সবচেয়ে বড় ক্যানভাস নীল আকাশে সাদা রঙের চলমান দৃশ্য আঁকানোর কাজ। আকাশ জুড়ে শুভ্র সাদা মেঘ দলবেঁধে কখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছুটছে একদিকেই।
দূর আকাশ থেকে একে একে এসে জড়ো হয়ে তৈরি করছে সাদা মেঘের ভেলা। মেঘের চলমান এই খেলা আকাশকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত।
ভর দুপুরে স্বচ্ছ আকাশে, তপ্ত রোদের ঝলসানো তাপ- খানিকটা অস্বস্তির কারণ হলেও দুপুর গড়াতেই কোমল হয়ে আসে সূর্যের তেজ। সেই সঙ্গে হালকা হওয়ার মৃদু পরশে ফুটে ওঠে ষড়ঋতুর রূপের রানী শরতের শান্ত প্রকৃতির স্নিগ্ধতা।
আকাশে মেঘের শুভ্রতা আর জমিনে কাশফুলের, সঙ্গী নদী পাড়ের নির্মল বাতাস। কাশফুলের পরশ পেতে শরতের সাজ সেজে ছুটে এসেছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
শুধু কাশফুল ছুঁয়ে দেখতে নয়, মৃদু বাতাসে ঢেউ খেলানো ফুলের সমুদ্রে হারিয়ে যেতে আর শরতের সাথে কিছু মুহূর্ত কাটাতে। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যই যমুনা নদীর জনশূন্য চর-পাড় সব সেজেছে শরতের সাজে।
নীল আকাশ থেকে শুভ্র মেঘের ভেলায় চড়ে ষড়ঋতুর রূপের রানী নেমে এসেছে কাশবনে। সবচেয়ে কম সময় নিয়ে চুপিসারে প্রকৃতিতে এসে নিজের রূপ মেলে ধরেছে শরৎ।
সমস্ত ব্যস্ততাকে থামিয়ে দিয়ে কেউ কেউ এসেছেন শরৎরানীর রূপ দেখতে। আসমান জমিনের এই বিশাল ক্যানভাস থেকে শরৎ যেনো তাদের বলছে-আপনার চারপাশেই সুন্দর শুধু একটু থেমে তাকাতে হবে।





