আকাশে মেঘের বাহার, নিচে শুভ্রের আধার। নীল অবয়বে তুষার শুভ্র আলখাল্লা।
মেদুর স্নিগ্ধ এ দৃশ্য কেবলই মুগ্ধ হবার। আপনি কবি হন, হন শিল্পী কিংবা ধরে নিলাম নাগরিক যাতনায় জীবন সংগ্রামে পথচারী—এই রূপসুধা সামলানো দায়।
প্রকৃতিত্বটা পুনর্বার শরতের, প্রকৃতির লাবণ্যময় ঋতু।
মানুষ, পাখি নাকি প্রকৃতি—কে জানে? ব্যস্ত নগরীর কোলাহলের বাইরে ক্যানভাস সাজিয়ে প্রকৃতির অপার আভিজাত্য। আর তাই শহর প্রসারিত হবার পর পরই বঞ্চিত মাঠ আর দখলদারদের থেকে পালিয়ে বাঁচা খালের পাড়ে কাশের সমারোহ।
আরও পড়ুন:
এভাবেই অবহেলার মাঝেই ভাদ্রকে ঠেলে আশ্বিনের সঙ্গে ঘর করছে বাংলার প্রকৃতি।
সৌন্দর্য ছুঁতে গেলেই ফুরিয়ে যায়। নন্দনের খোঁজ করে ক’জন? বোধহয় চাপা আর্তনাদ আর অভিমান নিয়েই আশ্বিনের বিদায়ের পথে শরৎ। মুছে যাচ্ছে নীলের গাঢ়ত্ব, আকাশে ফ্যাকাসে আলো, নিঃশব্দে উঁকি দিচ্ছে হেমন্ত।
পাকা ধানের হেমন্ত নগরীতে নেই, এখানে ছাতিমের সুবাসেই নগরবাসীর খোঁজ। হারিয়ে যাওয়া বিকেল ক্লান্তি হারানোর প্রশান্তির, আর এই রথের নীরব যাত্রা চলে শীতের উদ্দেশে।
যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে প্রকৃতির গান শোনা ভার, রূপ দেখার অবকাশও নেই। তবে ছাতিমের ঘ্রাণ যদি আপন মহিমায় সৌরভ ছড়ায়, নন্দনপিপাসুরা হয়তো ক্ষণিকের জন্য বলবে—বেঁচে আছি দেখতে, জীবনকে নিয়ে বাঁচতে।




