
কিউবার ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প; লক্ষ্য কী ওয়াশিংটনের
যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও অবনতির দিকে গেছে। কিউবাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে তেল অবরোধ, নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, কিউবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে হাভানার অভিযোগ, সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবেশ তৈরির জন্য ‘ভুয়া মামলা’ ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কিউবার সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কম: মার্কো রুবিও
কিউবার সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের প্রসঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।

কিউবায় সামরিক অভিযানের হুমকি ট্রাম্পের; কূটনীতি নিয়ে সন্দিহান রুবিও
কিউবায় সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। দ্বীপ রাষ্ট্রটির সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনার একদিন পরই এই হুমকি এলো। ওভাল হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৫০-৬০ বছর ধরে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিউবায় হস্তক্ষেপের কথা ভেবেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়তো তাকেই এটি করতে হবে।’ তিনি আরও জানান, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এমন পদক্ষেপ নিতে পারলে তিনি খুশিই হবেন।

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগ ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক চাল’: কিউবান প্রেসিডেন্ট
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রেভল্যুশনারি নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক চাল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল। গতকাল (বুধবার, ২০ মে) মার্কিন বিচার বিভাগ রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ নামক একটি সংগঠনের দুটি বিমান ভূপাতিত করে তিন মার্কিন নাগরিকসহ চারজনকে হত্যার অভিযোগ গঠন করার পর এই প্রতিক্রিয়া এলো। আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মামলা: মাদুরোর মতো পরিণতি বরণের শঙ্কা কিউবায়
১৯৯৬ সালে দুটি বিমানে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে মার্কিন সরকার। এখন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো কাস্ত্রোকেও যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেয়া হবে কিনা সেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় অভিযোগ দায়েরের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল।

যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ‘রক্তগঙ্গা’ বইবে—কিউবা প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি
কিউবায় কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে সেখানে ‘রক্তগঙ্গা’ বইবে বলে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। গত সোমবার তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। একই দিন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ও শীর্ষ নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ হুঁশিয়ারি এলো। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রাউল কাস্ত্রের বিরুদ্ধে আগামী বুধবারের মধ্যে মামলা দায়েরের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রের বিরুদ্ধে আগামী বুধবারের মধ্যে ফৌজদারি মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে ওয়াশিংটন-হাভানার মধ্যে। এছাড়াও মার্কিন অবরোধের কারণে ব্যাপক জ্বালানি সংকটে পড়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। ক্ষোভে ফুঁসছে কিউবাবাসী।

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কিউবার রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যমতে, একটি গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন সাপেক্ষে এই পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়াও কিউবা বিপ্লবের পর দ্বিতীয়বারের মতো হাভানায় বৈঠক করেছেন সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল জানিয়েছেন, হাভানা ওয়াশিংটনের ১০০ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

কিউবার শাসকদের বিদায় চান মার্কো রুবিও, বিনিময়ে ১০ কোটি ডলারের প্রস্তাব
কিউবার চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দেশটির নেতৃত্বের পরিবর্তন দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। কমিউনিস্ট শাসিত দেশটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে রাজি হয়, তবে ১০ কোটি ডলারের সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছে ওয়াশিংটন। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জ্বালানিহীন কিউবায় হাহাকার, দিনে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই
জ্বালানি তেলের মজুত পুরোপুরি ফুরিয়ে যাওয়ায় নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে কিউবা। দেশটির বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গতকাল (বুধবার, ১৩ মে) জানিয়েছে, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের অভাবে জাতীয় গ্রিড এখন ‘বিপর্যয়কর’ অবস্থায় রয়েছে। রাজধানী হাভানাসহ সারা দেশে দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এনটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কিউবা সাহায্য চাইছে; আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চাইছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ (মঙ্গলবার, ১২ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই তথ্য জানান। তুরকিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন তেল অবরোধে কিউবায় সংকট; টিকে থাকাই এখন ছোট ব্যবসার জন্য বড় লড়াই
কিউবার রাজধানী হাভানার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্যাবেলোন কিউবা প্রদর্শনকেন্দ্রের একটি ছোট্ট খাবারের দোকান ‘ওশি’। গত শুক্রবার (১০ মে) দোকানটির সামনের সবগুলো টেবিলেই পিৎজা আর বার্গার খেতে ভিড় জমিয়েছিলেন গ্রাহকেরা। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক ও জমজমাট মনে হলেও, ৪৬ বছর বয়সী দোকানমালিক মিগুয়েল সালভার চোখেমুখের অস্থিরতা বলছিল ভিন্ন কথা। ফোনে কথা বলা শেষে এক বুক হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকট আমাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ আল জাজিরার বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে কিউবার এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।