কিউবার প্রেসিডেন্ট ও কাস্ত্রো পরিবারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল
বিদেশে এখন
0

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল, তার পরিবারের সদস্য এবং প্রভাবশালী কাস্ত্রো পরিবারের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কমিউনিস্ট শাসিত প্রতিবেশী দেশটির ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ানোর এই সর্বশেষ পদক্ষেপে কাস্ত্রো পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৪ জুন) এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর ছেলে ও নাতি রয়েছেন। রাউল কাস্ত্রো বর্তমানে কোনো সরকারি পদে না থাকলেও কিউবার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তিনি এখনো অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেলের স্ত্রী এবং সৎ ছেলেকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। কিউবার রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।

কিউবার ওপর কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি তিনি প্রকাশ্যেই দ্বীপরাষ্ট্রটি দখলেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর ‘জ্বালানি অবরোধের’ কারণে দেশটির জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সেই নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে যারা দেশটিতে উগ্র ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা ও অর্থায়ন করে। মার্ক্সবাদী শাসনব্যবস্থা তাদের বিষাক্ত ও শয়তানি ‘বিপ্লব’ যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোথাও রপ্তানি করবে—এটি আমরা আর সহ্য করবো না।’

রুবিও সতর্ক করে বলেন, ‘যারা এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বা প্রতিষ্ঠানকে সেবা প্রদান করবে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। বিদেশি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এই সংস্থাগুলোর সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করে।’ এর আগে ২০২৫ সালেও কিউবার প্রেসিডেন্ট ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভিসা সীমিত করেছিল ওয়াশিংটন। ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, ভেনেজুয়েলার পর কিউবার সরকারকেও পতনের মুখে ঠেলে দিবে যুক্তরাষ্ট্র।

এএম