টাঙ্গাইলে প্রথমবার চাষে সাফল্য, সম্ভাবনাময় ‘রোজেলা চা’ নিয়ে কৃষকের স্বপ্ন

টাঙ্গাইল
এখন জনপদে
কৃষি
0

টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে ওষধি গুণসম্পন্ন ‘রোজেলা চা’। পরীক্ষামূলক চাষেই মিলেছে অভাবনীয় সাফল্য। স্বল্পখরচে অধিক লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে এ লাল চা চাষের স্বপ্ন দেখছেন। কৃষি বিভাগও বলছে, ‘রোজেলা চা’ চাষে বাণিজ্যিক ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

টাঙ্গাইলের ফসলি মাঠে অন্যরকম এক দৃশ্য। সবুজ পাতার মাঝে উঁকি দিচ্ছে গাড় লাল রঙের রোজেলা ফল।

তবে, এটি কোনো ফুলের বাগান নয়। স্থানীয়ভাবে একে মেস্তা বা চুকাই বলা হলেও, বিশ্বজুড়ে এর পরিচিতি ‘রেড টি’ বা রোজেলা চা হিসেবে।

পরীক্ষামূলকভাবে দুই শতক জমিতে এ অর্থকরী ফসলের চাষ করেছেন টাঙ্গাইলের মধুপুরের মহিষমারা গ্রামের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত কৃষক ছানোয়ার হোসেন। ফলন ও চায়ের স্বাদ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। নেই কোনো যত্ন, নেই রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের ব্যবহার। এন্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা ওষুধি গুণে ভরপুর মানবদেহের জন্য উপকারী এ লাল ফুলের দামও তাই চড়া।

টাঙ্গাইল মধুপুর রোজেলা চা চাষি ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ করতে চাইলে করা যাবে। কারণ এটি অর্গানিক। এখানে কোনো প্রকারের সার কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই এর বৃদ্ধি হয়। পরে ফুলটি শুকিয়ে প্যাকেটে রাখতে হয় গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে এটি খাওয়া হয়।’

সহজ চাষ পদ্ধতি, খরচ কম আর সহজেই ফল শুকিয়ে বানানো হয় চা কিন্তু বাজারে এর চাহিদা অনেক। কৃষি অফিসের এমন উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণায় আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় একজন কৃষক বলেন, ‘আমার বাসার আশেপাশে যে জায়গা আছে আমিও চিন্তা করছি এ চা উৎপাদন করব।’

রোজেলা ফলের প্রচুর ভিটামিন-সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর সুস্বাদু টক মিষ্টি স্বাদ চা-প্রেমীদের মাঝে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় চায়ের স্বাদ গ্রহণকারী এক ব্যক্তি বলেন, ‘কৃষি অফিসে গিয়ে আমি এ চা পান করি। স্বাদ কিছুটা অন্যরকম মনে হয়েছিলো। পরে জানতে পেরেছি এখানে চাষ হয় তাই আগ্রহ করে আমি রোজেলা চা চাষ দেখতে এসেছি।’

রোজেলা একটি উচ্চমূল্যের রপ্তানিযোগ্য ফসল। বাণিজ্যিক রূপ পেলে দেশের কৃষি অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।

টাঙ্গাইল মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব-আল-রানা বলেন, ‘প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে তারা যদি এটি উৎপাদন করে তাহলে আমরা এটি বাহিরে এক্সপোর্ট করতে পারি। আমরা কৃষি বিভাগ এ উদ্যোগে কাজ করছি আমরা এ রোজেলা চা এক্সপোর্ট করব মানসম্মত চা হিসেবে।’

টাঙ্গাইলে রোজেলা চাষের এ সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, একটু বৈচিত্র্য আনলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি সঠিক মোড়কজাতকরণ ও প্রচার পেলে এই লাল রঙের চা কেবল টাঙ্গাইলের নয়, সারা দেশের অর্থনীতিতেই বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এফএস