শরীয়তপুরে ‘জোড়া ইলিশের মেলা’, উৎসব আর ঐতিহ্যে মুখর মধ্যপাড়া

শরীয়তপুরে ‘জোড়া ইলিশের মেলা’
এখন জনপদে
শিল্পাঙ্গন
0

মাঘ মাসের প্রথম দিনেই শরীয়তপুরের মধ্যপাড়ায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়া ইলিশের মেলা’। ভোর হতেই মানুষের ঢল নামে মেলাপ্রাঙ্গণে। উৎসবমুখর পরিবেশ, কোলাহল আর প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এ মেলা কেবল মাছ কেনাবেচার জায়গা নয় বরং শরীয়তপুরবাসীর আবেগ, বিশ্বাস ও লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনস্থল।

দীর্ঘদিনের লোকজ সংস্কৃতির অংশ এ ‘জোড়া ইলিশের মেলা’। গ্রামবাংলায় প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মাঘের প্রথম দিনে জোড়া ইলিশ কিনে ঘরে নিলে সংসারে আসে সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ। সেই বিশ্বাসকে হৃদয়ে ধারণ করেই সূর্য ওঠার আগেই মানুষ ভিড় জমায় মেলাপ্রাঙ্গণে।

ভোরে মধ্যপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ডালিতে মাছ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ইলিশের পাশাপাশি রয়েছে নানা প্রজাতির দেশি মাছ। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের জোড়া ইলিশে ভরে উঠেছে পুরো বাজার। মাছের আকার ও ওজনভেদে দামে রয়েছে ভিন্নতা।

এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের জোড়া বিক্রি হচ্ছে ছয় হাজার ৮০০ থেকে সাত হাজার ৮০০ টাকায়। ৫০০ গ্রাম ওজনের জোড়া ইলিশের দাম এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। এর চেয়ে কম ওজনের ইলিশের দামও আকারভেদে নির্ধারিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ক্রেতারা দরদাম করে পছন্দের জোড়া ইলিশ কিনছেন। কেউ পরিবারের কল্যাণ কামনায়, কেউ মানত পূরণের জন্য, আবার কেউ শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখার অংশ হিসেবে এ মাছ কিনছেন।

মেলায় জোড়া ইলিশ কিনতে আসা বিশ্বনাথ দাস বলেন, ‘প্রতি বছরই এখানে আসি। এখন এ মেলাটা আমাদের জন্য একটা আনন্দের উৎসব হয়ে গেছে। শুধু মাছ কেনা নয়, পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, গল্প হয়, মেলার দোকানে সকালের নাস্তাও সেরে নিই। মেলার মাছের স্বাদটা আলাদাই লাগে। আমাদের বিশ্বাস, জোড়া ইলিশ ঘরে নিলে কল্যাণ হয়। এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব।’

মাছের পাশাপাশি মেলাকে ঘিরে বসেছে বাহারি মিষ্টির দোকান, খেলনা, রঙিন বেলুন ও নানারকম পণ্যের পসরা। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নিয়েছে এক প্রাণবন্ত আনন্দমেলায়।

মেলা উপভোগ করতে পরিবারের সঙ্গে এসেছেন শুভঙ্কর নাগ। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু বাজার নয়, এটা আমাদের উৎসব। পরিবার নিয়ে এখানে আসতেই ভালো লাগে। মাছ তো কিনেছি, এখন বাচ্চার জন্য খেলনা আর বাড়ির জন্য মিষ্টি কিনবো।’

প্রায় ২৫ বছর ধরে এ মেলায় মাছ বিক্রি করছেন ধীরেন দাস। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-দাদারাও এ মেলায় মাছ বিক্রি করতেন। এটা শুধু ব্যবসা নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে, পরিচিত-অপরিচিতদের সঙ্গে দেখা হয়। প্রতিবছর এ দিনটার জন্য অপেক্ষা করি।’

এসএস