সাতক্ষীরায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে পেটানোর অভিযোগ, যুবদল নেতাসহ আটক ২

সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় সাংবাদিককে পেটানো, আহত সাংবাদিক
এখন জনপদে
অপরাধ
0

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিক সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ (সোমবার, ২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রেসক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের এক নেতাসহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আহত সামিউল দৈনিক সমকাল পত্রিকার শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। আটক দু’জন হলেন শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলু রহমান ও তার সমর্থক আবদুর রহিম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুর ইসলাম আঙ্গুর, যুবদল নেতা মিজান, মফু খাঁসহ দলীয় নেতাকর্মীরা শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধনে প্রেসক্লাব সভাপতি সামিউল মনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদক চোরাচালানসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়।

একপর্যায়ে মানববন্ধন চলাকালে হঠাৎ করে যুবদল সদস্যসচিব আঙ্গুর, বাবলু, মিজান, মতলেবসহ ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রেসক্লাবে অবস্থানরত সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কি ও অসদাচরণ করা হয়।

আরও পড়ুন:

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীরা সভাপতিকে মারধর করতে করতে প্রেসক্লাব চত্বরের বাইরে নিয়ে যান এবং ইট, হাতুড়িসহ দেশিয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত সভাপতিকে তাৎক্ষণিকভাবে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির জানান, তার মাথার বাম পাশে শক্ত বস্তু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি এবং থানায় অবহিত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এসএস