কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জালে ধরা পড়লো ‘লাল কোট ফিশ’

পটুয়াখালী
লাল কোট ফিশ
কৃষি , মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
এখন জনপদে
2

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে ‘লাল কোট’ প্রজাতির একটি বিরল সামুদ্রিক মাছ। মাছটির আকর্ষণীয় উজ্জ্বল লাল রঙ ও ভিন্নধর্মী গঠনের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। জেলে সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২ আগস্ট) গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া এফবি জারিফ-৪ ট্রলারে আসাদ মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে।

আজ (মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট) সকালে মাছটি আলিপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া ফিশ গদিতে নিয়ে আসলে একনজর দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় করেন।

স্থানীয় ক্রেতা মোহাম্মদ ছগির আকন মাছটি এক হাজার টাকা দিয়ে কিনে সংরক্ষণ করেন। এর আগে কুয়াকাটা উপকূলে বিভিন্ন সময় বিরল ও ভিন্ন প্রজাতির বেশ কয়েকটি মাছ ধরা পড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে এমন মাছের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা এর কারণ অনুসন্ধানে বৈজ্ঞানিক গবেষণার দাবি জানিয়েছেন।

ট্রলার মাঝি আসাদ মাঝি বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় জালে মাছটি উঠে আসে। আগে এ ধরনের মাছ খুব একটা দেখিনি। মাছটির রঙ দেখে প্রথমে আমরাও অবাক হয়ে যাই।’

ক্রেতা মোহাম্মদ ছগির আকন বলেন, ‘মাছটি দেখতে খুবই সুন্দর ও ব্যতিক্রম। তাই সংরক্ষণের উদ্দেশে আমি এটি কিনেছি। এমন বিরল মাছ মানুষের আগ্রহেরও কেন্দ্রবিন্দু।’

আরও পড়ুন:

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘সৈনিক মাছ যা ইংরেজিতে রেডকোট কুয়ারেলফিস নামে পরিচিত, হোলোসেন্ট্রিডাই পরিবারের একটি আকর্ষণীয় সামুদ্রিক মাছ। বাংলাদেশে এটি সৈনিক মাছ, লাল সৈনিক মাছ বা লাল কোট নামে পরিচিত।’

তিনি বলেন, ‘উজ্জ্বল লাল রঙ, শরীরজুড়ে রূপালি-সাদা ডোরাকাটা দাগ এবং বড় চোখ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। এটি মূলত নিশাচর মাছ এবং বঙ্গোপসাগরসহ ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল প্রাচীর, পাথুরে তলদেশ ও রিফ-সংলগ্ন অগভীর সামুদ্রিক এলাকায় বসবাস করে। ছোট চিংড়ি, কাঁকড়া ও অন্যান্য তলদেশিয় অমেরুদণ্ণ্ডী প্রাণী খেয়ে সামুদ্রিক খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এর আকর্ষণীয় রঙের কারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবসায় এর ভালো চাহিদা রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবেও এটি খাদ্য মাছ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের বিচরণ রয়েছে। জলবায়ু, সাগরের পরিবেশগত পরিবর্তন এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার পরিধি বাড়ার কারণে মাঝেমধ্যে এমন বিরল প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। এসব মাছের তথ্য সংরক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে সহায়ক হবে।’

এসএস