ক্রিপ্টো ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সাইবার হামলা; বাইন্যান্সের সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার গায়েব

বাজার সূচক ও ডলারের পটভূমিতে বাইন্যান্স কয়েন (বিএনবি)
বিদেশে এখন
0

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্সে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্ল্যাটফর্মটি থেকে অন্তত ৬৩০ কোটি ডলারের (প্রায় ৪৭০ কোটি পাউন্ড) ডিজিটাল সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। তবে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বাইন্যান্স জানিয়েছে, তাদের সব তহবিল নিরাপদ রয়েছে এবং যেকোনো আর্থিক ক্ষতি প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল থেকে পূরণ করবে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং জানান, ডেবঅপস টিমের একজন প্রকৌশলীর কম্পিউটার হ্যাক করার মাধ্যমে এই সাইবার আক্রমণের সূচনা হয়। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা অননুমোদিতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পায়। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, সিস্টেমে প্রবেশের জন্য কেবল একজন প্রকৌশলীর অনুমতি ব্যবহার করা হয়নি, বরং এতে বেশ কয়েকটি জটিল মাধ্যম ও অতিরিক্ত ফাঁকফোকর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ওয়ালেটের গোপন চাবি (প্রাইভেট কি) ফাঁসের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

ঘটনার পর সাময়িকভাবে বাইন্যান্স থেকে অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ৪৫ ঘণ্টার মধ্যে এই সেবা পুনরায় চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাইন্যান্স জানিয়েছে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ব্লকচেইন বিশ্লেষক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্লকচেইনের সহায়তায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া টেথার ও সার্কেলের মতো অন্যান্য শীর্ষ ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মও প্রায় ২৪০ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ ফ্রিজ করেছে।

তদন্তকারী ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, এই বিশাল চুরির নেপথ্যে উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার গোষ্ঠী রয়েছে। ব্লকচেইন গোয়েন্দা সংস্থা টিআরএম ল্যাবস ও চেইনঅ্যানালিসিস জানিয়েছে, হামলার ধরন দেখে তারা নিশ্চিত যে এর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া হ্যাকার নেটওয়ার্ক ট্রাডারট্রেটর বা লাজারাস গ্রুপ জড়িত। এর আগে ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনাতেও এই গোষ্ঠী জড়িত ছিল।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্টের বিশেষজ্ঞ জয়ন্ত দেব জানান, হ্যাকাররা এনক্রিপশন ভাঙেনি বা প্রাইভেট কি চুরি করেনি। তারা মূল সিস্টেমের সেই অংশটি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে যা চাবিগুলোকে অনুমোদন দেয়। শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও মূল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হাতছাড়া হলে কী ঘটতে পারে, এই ঘটনা তার বড় উদাহরণ।

ইতিহাসের বৃহত্তম এই সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে বড় দরপতন দেখা দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ৭৬,৪০০ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া ইথার, সোলানা ও এক্সআরপি কয়েনের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স বর্তমানে বিশ্ব ক্রিপ্টো বাজারের প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০২৩ সালে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের দায়ে মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে ৪৩০ কোটি ডলারের সমঝোতা করে প্রতিষ্ঠানটি, যার পর প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও পদত্যাগ করেন। নতুন এই বিশাল ক্ষতির মুখোমুখি হলেও বাইন্যান্স জানিয়েছে, তাদের এসএএফইউ ইমার্জেন্সি ফান্ড ও নিজস্ব সম্পদ থেকে গ্রাহকদের প্রতিটি চুরিকৃত অর্থ ফেরত দেয়া হবে।

এএম