হরমুজ প্রণালি বন্ধ, ক্রুড আমদানি অনিশ্চিত; পাম্পে সরবরাহ ১০ শতাংশ কমবে

চট্টগ্রাম
সরকার পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ ১০ শতাংশ কমাবে
এখন জনপদে
0

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বিপিসি। এর মধ্যে আরব আমিরাতের জলসীমায় এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আটকা পড়েছে একটি মাদার ভেসেল। এক মাসের জ্বালানির মজুত থাকলেও হরমুজ না খুললে সংকটের আশঙ্কা বিপিসির। আপাতত সংকট মোকাবিলায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির সরবরাহ ১০ শতাংশ কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭০ লাখ মেট্রিক টন, যার প্রায় শতভাগ আমদানি নির্ভর। অপরিশোধিত জ্বালানির পুরোটাই আসে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে। ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় জ্বালানি তেল নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

এরই মধ্যে বিপিসির এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আবুধাবীর জলসীমায় আটকা পড়েছে একটি মাদার ভেসেল। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে তেল বোঝাই করলেও সেটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেনি। বিপিসি বলছে, বর্তমানে এক মাসের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত থাকায় আপাতত সংকট নেই। তবে আটকে পড়া ও পাইপলাইনে থাকা আমদানি যথাসময়ে না আসলে সংকট হতে পারে।

বিপিসি অপারেশনের পরিচালক ড. এ কে এম আজাদুর রহমান বলেন, ‘এই মাসে আমাদের দুটি ক্রুড ওয়েলের কার্গো যার প্রতিটি ১ লাখ মেট্রিক টন করে জ্বালানি তেল আসবার কথা ছিল। তার মধ্যে প্রথমটি এরই মধ্যে আবুধাবির কাছাকাছি আটকে পড়েছে। অন্যদিকে ২২ মার্চ আমাদের আরও একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে, যদি পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যায়, তাহলে আশা করছি সাপ্লাই চেইন ঠিক হয়ে আসবে।’

আরও পড়ুন:

সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় চুক্তির বাইরেও অতিরিক্ত পরিশোধিত তেল দিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করা হলে কাঙ্ক্ষিত সাড়া দেয়নি তারা। এছাড়া বেড়েছে দামও। এ অবস্থায় সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ ১০ শতাংশ কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান সরকারের।

ড. এ কে এম আজাদুর রহমান আরও বলেন, ‘জনগণের কাছে মন্ত্রীর আহ্বান জানিয়েছেন, অযথা বিদ্যুৎ খরচ বা বিপুল পরিমাণে পরিবহন ব্যবহারের যে প্রবণতা আমাদের রয়েছে, সেটা না করে যদি আমরা দেশপ্রেম থেকে গণপরিবহণ ব্যবহার করি, তাহলে এই সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।’

ইস্টার্ন রিফাইনারির অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পুরোটাই পরিবহন ও খালাস করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ লাখ টন তেল নিয়ে আটকে পড়া জাহাজটি আনতে কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানের এমডি।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের জাহাজ নর্ডিক পোলাস সৌদি থেকে তেল লোড করে গালফে অবস্থান করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন বের হয়ে আসতে পারে সেজন্য আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।’

দেশে আমদানি হওয়া ২০ শতাংশ অপরিশোধিত জ্বালানির পরিশোধন হয় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। বাকী ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হয়।

এএম