ত্বকী হত্যার ১৩ বছর: বিচারহীনতার দীর্ঘসূত্রতায় হতাশ পরিবার

নারায়ণগঞ্জ
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী
এখন জনপদে
0

মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো আদালতে দাখিল হয়নি মামলার অভিযোগপত্র। বিচারহীনতার এ দীর্ঘসূত্রতায় হতাশ নিহতের পরিবার ও নাগরিক সমাজ।

অপরাজনীতির শিকার হয়ে প্রাণ হারানো এক মেধাবী কিশোর—তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খান রোডের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সে।

দুই দিন পর, ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে পুলিশ উদ্ধার করে তার নিথর দেহ। এ ঘটনায় নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় র‍্যাব। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

কিন্তু ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়েছে, মামলার ১০২টি ধার্য তারিখ শেষ হলেও আদালতে এখনো দাখিল হয়নি অভিযোগপত্র। এতে বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ত্বকীর পরিবার ও স্থানীয় মানুষসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন:

নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বী বলেন, ‘শেখ হাসিনা যেহেতু ত্বকী হত্যার বিচার সাড়ে ১১ বছর বন্ধ করে রেখেছে। ভেবেছিলাম অন্তর্বর্তী সরকার তারা ক্ষমতায় এসে ত্বকী হত্যার বিচারটা করবে। কিন্তু দেড় বছরেও তার কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। আমরা আশা করেছি বিএনপি সরকার ত্বকী হত্যার বিচার করবে।’

স্থানীয় নাগরিকরা জানান, ত্বকী হত্যার বিচারের মাধ্যমে দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, তা সরকার ভাঙবে।

জেলাবাসীর দাবি, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে ত্বকী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবীও।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, ‘ত্বকীর মা চেয়েছিলেন তার ছেলের হত্যার বিচারটি যেন হয়। আমি বিচারটি দেখতে চাই, তিনি দেখতে চান। আর আমিও চাই বিচারটি যেন হোক।’

ত্বকী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা আর সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

জেআর