স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামের মৃত মাঙ্গনের ছেলে আব্দুল গফুর সরকারের একটি গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে গ্রামের কয়েকজন মিলে অসুস্থ গরুটি জবাই করেন এবং মাংস ভাগাভাগি করে নেন।
ওই মাংস কাটাকাটি, ধোয়া, রান্না ও খাওয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, কয়েকদিন পর তাদের শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। আক্রান্তদের হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ ধরনের ফোঁড়া ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। অসুস্থদের মধ্যে রহিম, মোস্তফা, আসাদ, ছানা, রাহুল ও লাভলীসহ কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমাছ আলী বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই গ্রামের ছয়জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে এসেছিলেন। তাদের শারীরিক লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘অসুস্থ গরু জবাইয়ের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পাওয়ার পরপরই প্রাণিসম্পদ দপ্তরের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে জবাই করা গরুর অবশিষ্ট সংরক্ষিত মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলেছে।’
তিনি বলেন, ‘রোগটি ছড়িয়ে পড়া রোধে জরুরি ভিত্তিতে চলনালী গ্রামের প্রায় দুই হাজার গবাদিপশুকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হয়েছে। গত বছর উপজেলায় ২৫ হাজার গরুকে তড়কা (অ্যানথ্রাক্স) রোগের টিকা দেয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হলে গোপনে জবাই না করে দ্রুত প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে জানানোর জন্য এলাকাবাসীকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’



 coalition ride on the back of a pickup truck in Kidal-320x167.webp)

