কুমিল্লার রেলপথে চুরির হিড়িক: ৫ কোটি টাকার ক্ষতি, হুমকিতে ট্রেন চলাচল

কুমিল্লা
কুমিল্লার রেলপথ
এখন জনপদে
0

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার বিভিন্ন স্টেশনের যন্ত্রাংশ ও মালামাল চুরির হিড়িক পড়েছে। এতে ঝুঁকিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ট্রেন চলাচল। শুধু ময়নামতি রেলস্টেশন এলাকায় চুরি হয়েছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ অন্তত পাঁচ কোটি টাকারও বেশি যন্ত্রাংশ। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, মামলা ও গ্রেপ্তার করেও চুরি থামানো যাচ্ছে না।

এক এক করে খুলে নেয়া হয়েছে ১৪টি সিগন্যাল পয়েন্ট মেশিন, মোটর, ক্যাবলসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। এছাড়া, স্টেশনে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ১০টি খুঁটি। কোনোটিতে নেই সিগন্যাল ল্যাম্প। শুধু এতেই থেমে নেই চুরির ঘটনা।

লাইনের সংযোগস্থল থেকে খুলে নেয়া হয়েছে নাট-বল্টু, স্লাইড চেয়ার প্লেট, লক প্লেট ও স্ক্রুস্পাইক। বাদ যায়নি প্ল্যাটফর্মও। ভবনের ভেতর-বাইরে থেকে উধাও ক্যাবল, পাখা, বাল্বসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। ফলে প্রায় সবকিছু হারিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে রেলওয়ে ময়নামতি স্টেশন।

রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিটি সিগন্যাল পয়েন্ট মেশিনের দাম প্রায় ১৫ লাখ এবং প্রতিটি সিগন্যাল ল্যাম্পের দাম ৫০ হাজার টাকা। গত কয়েক মাসে অন্তত ৫ কোটি টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। এতে বন্ধ রয়েছে লুপ লাইনে ট্রেন চলাচল, সিগন্যাল কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন পাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এসব যন্ত্রাংশ হারিয়ে স্টেশনটি কার্যক্ষমতা হারিয়েছে পুরোপুরি। এতে ঝুঁকির মুখে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলের রেলপথে নিরাপদ ট্রেন চলাচল, হুমকিতে যাত্রী নিরাপত্তা।

আরও পড়ুন:

চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে এক সদস্য ধরা পড়লেও মূল চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর পেছনে রয়েছে রেলওয়ের অসাধু মহলের যোগসাজশ। ময়নামতি স্টেশনসহ কুমিল্লার ৫টি স্টেশনে ৬৭টি স্বয়ংক্রিয় পয়েন্ট মেশিনের মধ্যেে এরই মধ্যে ৩৯টি পয়েন্ট মোটর চুরি হয়েছে। যদিও পরে কিছু যন্ত্রাংশ পুনঃস্থাপন হলেও চুরি রোধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, এখানে দুর্ঘটনা হবার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি বড় দুর্ঘটনার পর অনেকে অনেক কিছু বললেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না। ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে বলে জানান তারা।

দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি স্থানীয়দের।

কুমিল্লা সচেতন নাগরিক কমিটি সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘এর একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত। যার মধ্যে দিয়ে রেল যে সেবা দিতে প্রস্তুত জনগণ সে সেবা যেন পেয়ে থাকে।’

এদিকে, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং চোর চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতেই একাধিক মামলার দাবি রেলওয়ে সিগন্যাল বিভাগের। আর রেলপথ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার পর চোর চক্রের সদস্যরা ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে দ্রুতই বের হয়ে যাচ্ছে আসামিরা। তবে, পাহারা বাড়ানোর দাবি তাদের।

কুমিল্লা বাংলাদেশ রেলওয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ এবং আইনে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন অফিসারকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ভালো স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করলে এ চুরি ঠেকানো সম্ভব।’

কুমিল্লা বাংলাদেশ রেলওয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আহমদ আলী বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিচ্ছি। তারাও চেষ্টা করছে আমরাও চেষ্টা করছি।’

ময়নামতির এ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরি শুধু একটি স্টেশনেরই নয়, বরং পুরো রেলের নিরাপত্তার জন্যই সতর্কবার্তা। যা এখনই ঠেকানো না গেলে বড় দুর্ঘটনায় বাড়তে পারে প্রাণহানির ঝুঁকি। তাই টহল বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতায় আনার তাগিদ সচেতন মহলের।

এফএস