শ্রমিকরা জানান, দেওরাছড়া চা বাগানে গত ৩ সপ্তাহ চারদিন ধরে শ্রমিকদের মজুরী ও রেশন প্রদান করছেন না বাগান ম্যানেজমেন্ট। এতে বিপাকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক। চা শ্রমিকরা মজুরী প্রদানের দাবি জানালেও বাগান কৃতর্পক্ষ নিশ্চুপ রয়েছে।
দেওরাছড়া চা বাগান পঞ্জায়েত কমিটি পক্ষ হতে গত ১২ এপ্রিল শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিলো বলেও জানান শ্রমিকরা। কিন্তু ৪ থেকে ৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় আজ শ্রমিকরা বাগানের অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে অফিসের মুল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন:
দেওরাছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কুর্মী বলেন, ‘৩ সপ্তাহ ৪ দিন ধরে তলব ও রেশন বন্ধ রয়েছে। কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা লিখিত আবেদন করেছি মজুরী দিতে, এরপরও দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই চা শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। বর্তমানে চা বাগানে কাজ বন্ধ রেখেছেন তারা।’
রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, ‘কিছুদিন পূর্বে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে বাগান ম্যানেজমেন্ট ৩ সপ্তাহ ৪ দিন ধরে তলব বন্ধ রেখেছে।’
দেওয়াছড়া চা বাগান ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে কিছু শ্রমিক তাকে বাগান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে।’
তিনি জানান, বাগানের ম্যানেজারের নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মজুরী ও রেশন বন্ধ করা হয় বলে জানান তিনি।
প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে চাহিদা পত্র পাঠালে পরের বুধবারে মজুরী রেশন পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাগান পঞ্চায়েতদের এ বিষয়ে জানানো হলে তারা মজুরীর ব্যবস্থা করবে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘তাদের একটি প্রতিনিধি দল দেওরাছড়া চা বাগানে গিয়েছে। মজুরী ও রেশন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।’





