‘পীর’ শামীম হত্যা: ওসিকে অপদার্থ বললেন মামলার প্রধান আসামি

অভিযুক্ত প্রধান আসামি মুহাম্মদ খাজা আহমেদ ও ফেসবুক স্ট্যাটাস
এখন জনপদে
2

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফুর রহমানকে অপদার্থ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন মুহাম্মদ খাজা আহমেদ নামে উপজেলার ফিলিপনগরের কথিত পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

আজ (রোববার, ১৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসিকে নিয়ে তার ফেসবুক আইডিতে এমন পোস্ট করেন। তবে তার নিজের লেখা পোস্ট নয়, এটি তার এডমিন পোস্ট বলে দাবি করেছেন খাজা আহমেদ।

ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘দৌলতপুর থানার ওসি, জীবনে বিভিন্ন থানায় অন্তত ২০ থেকে ২৫জন ওসির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সারা বাংলাদেশের অন্তত ৫০ জন ওসির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে। এর মত অপদার্থ আর দ্বিতীয়টি দেখিনি। পুরো দৌলতপুরকে আইনের শাসনে অব্যবস্থাপনার মূল কারিগর এ ব্যক্তি। তার মূল চাহিদা টাকা। সে মরা লাশের বিষয়েও টাকা ছাড়া কথা বলে না। আমি এসপি কুষ্টিয়া রেঞ্জ ডিআইজি খুলনা মহোদয়ের সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

তার ফেসবুক আইডিতে এমন পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। চলছে আলোচনা-সমালোচনাও।

এ বিষয়ে খাজা আহমেদ জানান, এটি তার নিজের লেখা পোস্ট নয়। এ মুহূর্তে ফেসবুক চালাতে পারছেন না। তার পরামর্শে তারই ছোট ভাই এ পোস্টটি করেছেন।

আরও পড়ুন:

পীর হত্যার মামলার আসামি হওয়ায় এমন পোস্ট করেছেন কি না এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই ওসির ব্যাপারে এ ধরনের কথা বলে আসছি। তার বিরুদ্ধে এমন নানা অভিযোগ আসছে। অনেককে রাতের বেলায় তিনি ফোন করে মামলার ভয় দেখাচ্ছেন, টাকা চাচ্ছেন, মামলা তো হতে পারে এখানে খরচ খরচা আছে এমন কথা বলছেন। তাকে এখন পর্যন্ত ভালো লাগেনি তাই এ পোস্টটি করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ওই ফেসবুক পোস্টটি তিনি দেখেননি, তবে শুনেছেন। একজন হত্যা মামলার আসামি কি লিখলো, কি লিখলো না সে বিষয়ে তার মন্তব্য নেই বলেও জানান।

এর আগে গত শনিবার দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে উপজেলার ফিলিপনগরে কথিত পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের দরবার শরিফে প্রবেশ করে বিক্ষুব্ধ জনতা শামিমসহ তার ভক্তদের ওপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়।

গুরুতর অবস্থায় শামিমকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর দৌলতপুর থানায় নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদসহ চারজনসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ জনের নামে মামলা করা হয়। তবে মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এএইচ