ভোলা-ঢাকা নৌরুটে যাত্রী হয়রানি বন্ধে ১৪ দফা দাবি, দুই যুবকের অবস্থান কর্মসূচি

দুই যুবকের অবস্থান কর্মসূচি
এখন জনপদে
0

ভোলা-ঢাকা নৌরুটে যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, নিরাপত্তাহীনতা ও লঞ্চ স্টাফদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। একই সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অনিয়ম বন্ধে ১৪ দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

আজ (রোববার, ২৪ মে) দুপুরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাধারণ যাত্রী, স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান ও যাত্রী ইমরান বক্তব্য দেন। পরে সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন ও স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।

ভোলার রাজাপুর ইউনিয়নের মেদুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ২৩ মে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ভোলা অভিমুখী ফারহান-৯ লঞ্চে যাত্রাকালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করলে লঞ্চ স্টাফদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে তাকে লঞ্চে আটকে রেখে ইলিশা ঘাটে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়। এতে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘একজন যাত্রী হিসেবে ভাড়া ও সেবার বিষয়ে মতামত দেয়ার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

আরও পড়ুন:

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভোলা-ঢাকা নৌরুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সিট বাণিজ্য, যাত্রী হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটে আসছে। বিভিন্ন সময় যাত্রী কল্যাণ সংগঠন ও সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানালেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’

যাত্রীদের পক্ষ থেকে ১৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, লঞ্চে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া সরবরাহ, প্রতিটি লঞ্চে সিসিটিভি ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন।

এছাড়াও, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল বৃদ্ধি, ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত করা, দক্ষ মাস্টার ও স্টাফ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা বক্স রাখা, নারী-শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ জোন নিশ্চিত করা এবং যাত্রী অভিযোগ গ্রহণে হটলাইন চালুসহ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।

সাধারণ যাত্রী ইমরান বলেন, নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ ও লঞ্চ মালিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, ভোলা-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ঘাটে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত লঞ্চে যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে।

এফএস